dailyjanakantha.com · Feb 21, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260221T060000Z
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। সংবিধান অনুযায়ী এসব আসনে শিগগিরই তপশিল ঘোষণা করবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। দলীয় সূত্র বলছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিএনপির ভাগে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬টি আসন যেতে পারে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, রমজানের মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঈদের আগেই পুরো কার্যক্রম শেষ করতে চায় কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অনেক নেত্রী। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য, যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও অবদানের ভিত্তিতেই মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে। তরুণ নেতৃত্বকে মূল্যায়নের সম্ভাবনাও রয়েছে। সংবিধান সংশোধন বা আসনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রশ্নে বিশ্লেষকদের মত হলো, যতক্ষণ না সংসদে নতুন আইন পাস হচ্ছে, ততক্ষণ বর্তমান সংবিধানই বহাল থাকবে। সেই অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। ভবিষ্যতে সংসদে সিদ্ধান্ত হলে অতিরিক্ত আসন যুক্ত করা যেতে পারে। দলীয় পর্যায়ে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে ত্যাগী ও সক্রিয় নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। ২০০১ সালে যারা সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ বয়সজনিত কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গেছেন। তবে কয়েকজন প্রবীণ নেত্রীও আলোচনায় আছেন। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান, সাবেক মহিলা দল সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকীসহ একাধিক সাবেক এমপি ও আঞ্চলিক নেত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্রদল ও মহিলা দলের সাবেক ও বর্তমান নেত্রীদের নামও আলোচনায় এসেছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ঢাকায় অবস্থান করে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং দুর্দিনে দলের সঙ্গে থাকা নেত্রীদের এবার মূল্যায়ন করা হতে পারে। মনোনয়নপ্রত্যাশী কয়েকজন নেত্রীও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে দল যেন ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে। শেষ পর্যন্ত কারা সংসদে যাচ্ছেন, তা নির্ধারণ করবে দলীয় নেতৃত্ব।