NewsWorld
PredictionsDigestsScorecardTimelinesArticles
NewsWorld
HomePredictionsDigestsScorecardTimelinesArticlesWorldTechnologyPoliticsBusiness
AI-powered predictive news aggregation© 2026 NewsWorld. All rights reserved.
Trending
AlsNewsFebruaryMajorDane'sResearchElectionCandidateCampaignPartyStrikesDigestSundayTimelinePrivateCrisisPoliticalEricBlueCreditFundingRamadanAdditionalLaunches
AlsNewsFebruaryMajorDane'sResearchElectionCandidateCampaignPartyStrikesDigestSundayTimelinePrivateCrisisPoliticalEricBlueCreditFundingRamadanAdditionalLaunches
All Articles
dailyinqilab.com
Clustered Story
Published 1 day ago

৯১ % আসনে উজ্জীবিত বিএনপি

dailyinqilab.com · Feb 20, 2026 · Collected from GDELT

Summary

Published: 20260220T184500Z

Full Article

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুসম্পন্ন হয়েছে। এবারের ভোটে জয়-পরাজয় এবং জনসমর্থনের ফলাফল হাতে নিয়ে সারা দেশের মতো বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের রাজনীতি সচেতন সাধারণ নাগরিকদের মাঝে চলছে এপিঠ-ওপিঠ হিসাব-নিকাশ, আলোচনা আর পর্যালোচনা। চট্টগ্রাম বিভাগে জেলার সংখ্যা ১১টি। এই এগারো জেলায় ৫৮টি নির্বাচনী এলাকা বা আসনের মধ্যে বিএনপি জয়লাভ করেছে ৫৩টি আসনে। জামায়াতে ইসলামী জয়ী হয়েছে মাত্র ৫টিতে। শতকরা হিসাবে চট্টগ্রাম বিভাগে ৯১ ভাগেরও বেশি হারে আসনে বিজয় অর্জনে উজ্জীবিত বিএনপি। দেশের বিভাগসমূহের মধ্যে চট্টগ্রামে বিএনপি সর্বাপেক্ষা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেয়েছে জাতীয় সংসদে। ভূমিধস বিজয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নতুন সরকার গঠন করেছেন তাতে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ চারজনকে মন্ত্রীত্ব দিয়ে চট্টগ্রামের প্রতি ‘পুরস্কারের বার্তা’ দিয়েছেন। এর ফলে দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, মীরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক জোনসহ অর্থনৈতিক সূতিকাগারের অবকাঠামোগত যুগোপযোগী আধুনিকায়ন-সম্প্রসারণ, সক্ষমতা ও সেবার মান বৃদ্ধি করা হবে। সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের সুষম ও সামগ্রিক উন্নয়নের আশাবাদ পুনরায় জাগ্রত হয়েছে। অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াও সময়ে নির্বাচনকালে চট্টগ্রামে বিএনপি সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন উপহার পায়। সেই সুবাদে বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে বেশি সংখ্যক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাখেন। অন্যদিকে ভোটের অঙ্কের হিসাব-নিকাশে ও ফলাফলদৃষ্টে যে জনসমর্থন প্রতিফলন হয়েছে, তাতে চট্টগ্রাম বিভাগে জামায়াত নির্বাচনী জোটগতভাবে আসন পেয়েছে ৫টি। শতকরা হিসাবে মাত্র ৯ ভাগেরও কিছুটা কম। দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ৮টি জেলায় কোনো আসনই পায়নি। এমনকি অতীতে নির্বাচনে জয়ী হওয়া প্রার্থীও এবার পরাজিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে বেশ কয়েকটি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী হেরেছেন লক্ষাধিক ভোটের বিশাল ব্যবধানে। জামায়াত সবসময়ই বলে আসছিল এবং একটা ধারণাও করা হয়ে থাকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে জামায়াতের বড়সড় ‘সাংগঠনিক শক্তি’ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতাও রয়েছে। কিন্তু জামায়াতের ‘সাংগঠনিক শক্তি’ কাজে আসেনি; বিএনপির প্রতি আমজনতার সমর্থনের ব্যাপক জোয়ারের কাছে। বিএনপির দাবিটি এবারো যথার্থ প্রমাণিত হয়েছে ‘বীর চট্টলার মাটি বিএনপির ঘাঁটি’। মাঠের তথ্য ও ভোটের ফলাফলদৃষ্টে স্পষ্ট যে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের (১৫-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর জয়লাভ; ‘যোগ্যতার বিজয়’। কিন্তু ওই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীন কম পরিচিত এবং নতুন মুখ। তিনি সার্বিক যোগ্যতায় ও জনসমর্থনে উৎরে যেতে না পারলেও জামায়াতের ‘জাঁদরেল’ প্রার্থীর এক লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোটের বিপরীতে ধানের শীষে নাজমুলের এক লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোটের বিরাট জনসমর্থন জামায়াতকেও ভড়কে দিয়েছে। জামায়াত নেতারা প্রকাশ্যেই তা বলাবলি করছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অপর আসন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)তেও জামায়াত জয়ী হয়েছে বিএনপির নিজেদের গৃহদাহে তথা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণেই। আসনটিতে বিজয়ী দাঁড়িপাল্লার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের প্রাপ্ত ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোটের বিপরীতে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। তবে মাঝখানে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল মার্কায় মোহাম্মদ লিয়াকত আলীর ভোট ৫৫ হাজার ৭১; যা মূলত বিএনপির বাক্সেই যাওয়ার কথা। অর্থাৎ ত্রিমুখী লড়াইয়ে জামায়াত প্রার্থীর ভাগ্য খুলেছে; বিদ্রোহীর কারণে কপাল পুড়ছে বিএনপি প্রার্থীর। জামায়াত জোটের সঙ্গী হয়ে বহু বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনার জন্মদানকারী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নিজ আসনে তার ছেলে ওমর ফারুক বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাস্ত হন। পটিয়ায় তৃতীয় হয়ে জামানত হারান জামায়াতের প্রার্থী। আবার চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনটি জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপিকে কেন্দ্রীয় জোটের সিদ্ধান্তে ‘ছেড়ে দেয়ার’ পরও তা কেড়ে নেয়াসহ নানা নাটকীয়তায় দাঁড়িপাল্লা মার্কা প্রত্যাহার করা হয়নি; সেখানে এনসিপি তথা জোটের প্রার্থী জুবাইরুল আরিফ জামানত খুইয়েছেন। বন্দরনগরীসহ জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি আসন মিলিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫টি জেলায় আসন সংখ্যা মোট ২৩টি। এর মধ্যে, ২১টি আসনেই জিতেছে বিএনপি। জামায়াত জোট পেয়েছে মাত্র দুটি। তাছাড়া কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ইতঃপূর্বে নির্বাচনে জামায়াত জয়ী হলেও এবার ভোটের বিরাট ফারাকে হাতছাড়া হয়েছে। হেরেছেন দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। অবশ্য কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) অপর আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী বিএনপির শাহজাহান চৌধুরীর কাছে হারেন স্বল্প ভোটের ব্যবধানে। জামায়াতের নতুন মুখ হলেও আনোয়ারী রীতিমতো চমক লাগাতে সক্ষম হন। মহানগরী ও চট্টগ্রাম জেলায় ১৬টি আসনের মধ্যে হার-জিতের ব্যবধান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির ধানের শীষ জয়ী হওয়া চট্টগ্রামের ১৪টি আসনে প্রতিটির গড়ে ভোটের ব্যবধান ৬৫ হাজার ৩৯। অথচ জামায়াত জয়ী হওয়া চট্টগ্রামের দুই আসনে বিএনপির গড়ে ভোট কম ৫২ হাজার ৭৮৬। জামায়াত জয়ী হওয়া আসনে বিএনপির সঙ্গে গড় ভোটের ব্যবধান ২৬ হাজার ৩৯৩। চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলায় তিনটি আসনেই হেরেছে জামায়াত জোটে প্রার্থীরা। ফেনী-২ আসনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু (জামায়াত জোটের প্রার্থী) বিএনপির জয়নাল আবেদীনের কাছে ৫১ হাজার ১৫২ ভোটের ব্যবধানে হারেন। নোয়াখালী জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই হেরেছে জামায়াত জোট। শুধু হাতিয়া আসনটি জিতেছে জামায়াতের শরিক দল এনসিপি। লক্ষ্মীপুরে চারটি আসনে একটিও জিতেনি। কক্সবাজারে চার আসনেই হেরেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬ আসনে এবং চাঁদপুরে ৫টি আসনের একটিও পায়নি জামায়াত জোট। কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই হেরেছে জামায়াত জোট; একটি পেয়েছে এনসিপি, আরেকটি জিতেছে জামায়াত। তিনটি পার্বত্য জেলার তিন আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছে জামায়াতের জোট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের নতুন পথচলায় চট্টগ্রামে নেতাকর্মীরা দারুণ উচ্ছ্বসিত। বিপুল ভোটে বিজয়ী এই সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক উঁচু। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনী জনবান্ধব ও প্রশংসনীয় শান্তি-শৃঙ্খলা বিধানের দৃষ্টান্ত রেখে এবং ভোটারদের নজিরবিহীন স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে গেল ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির গণজোয়ার ও সাফল্য অভাবনীয়। দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের বিএনপি দীর্ঘ দেড় যুগ পর চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে তাদের হারানো ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করেছে। রক্তাক্ত এক আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান শেষে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের পথচলা শুরু হওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ী-শিল্পপতি, বিনিয়োগকারীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। জনগণের প্রত্যাশা, দেশ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে, দ্রুত স্থিতিশীলতার যাবে দেশ। এরজন্য জাতীয় সংসদকে কেন্দ্রবিন্দু করে বিরোধীদলসমূহের গঠনমূলক, সৃজনশীল ও বলিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য। তাতে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে। বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হবে। স্থবিরতা কাটিয়ে বাড়বে আমদানি-রফতানি। বাড়বে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান। বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল হবে বিশ^ বণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণ।


Share this story

Read Original at dailyinqilab.com

Related Articles

dailyjanakantha.com1 day ago
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির যারা এগিয়ে

Published: 20260221T060000Z

dailyinqilab.com1 day ago
আমাদের যুবসমাজ বর্তমানে হতাশ : নজরুল ইসলাম খান

Published: 20260221T103000Z

dailyinqilab.com1 day ago
কলকাতায় মারা গেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম

Published: 20260221T070000Z

dailyinqilab.com3 days ago
ব্যতিক্রমী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Published: 20260219T193000Z

dailyinqilab.com3 days ago
পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে

Published: 20260219T193000Z

dailyinqilab.com4 days ago
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিবৃতি

Published: 20260218T180000Z