dailyjanakantha.com · Feb 20, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260220T193000Z
বাংলাদেশের আধুনিক সংবাদপত্রের পথিকৃৎ দৈনিক জনকণ্ঠ। আজ শনিবার ৩৪তম বর্ষে পা দিল জনপ্রিয় এই দৈনিক। মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনার নীতি ধারণ করে ১৯৯৩ সালে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু হয়। দ্রুত পাঠক সমাদৃত এই পত্রিকাটি আজ প্রতিষ্ঠার ৩৩তম বার্ষিকী পালন করছে। নতুন বর্ষে পদার্পণে জনকণ্ঠের অফুরন্ত প্রাণশক্তি পাঠকের প্রতি লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আজ আমরা শোকাহত চিত্তে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি দৈনিক জনকণ্ঠের স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা, দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি গ্লোব-জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান মরহুম মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদের কথা। দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা, কর্মবীর স্বপ্নদর্শী এ মানুষটি গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, একদিন তিনি থাকবেন না, কিন্তু তাঁর কাজ থাকবে। তাঁর অবদান দেশের মানুষ মনে রাখবে। তাঁর অবর্তমানে উত্তরসূরিরা সেই স্বপ্ন, বিশ্বাস ও কর্মস্পৃহাকে নিজেদের জীবনে ধারণ করে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তাঁরই হাতেগড়া এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে। আজ এই বিশেষ দিনে তিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই। কিন্তু তাঁর উত্তরসূরিদের কর্মস্পৃহায় দুর্নিবার অনুপ্রেরণা হয়ে তিনি উপস্থিত আছেন আমাদের প্রতিটি কাজে। ফলে, সম্পাদক শামীমা এ খানের নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে দৈনিক জনকণ্ঠ। জনকণ্ঠ তার সম্পদকীয় নীতিতে অবিচল থেকে নতুন দশকে নতুনত্বের ছোঁয়ায় আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা বর্ষপূর্তির এইক্ষণে দৈনিক জনকণ্ঠ স্মরণ করছে, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যাঁরা আত্মবিসর্জন দিয়েছেন সেই সকল শহীদকে। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। ১৯৯৩ সালে আত্মপ্রকাশ ঘটে দৈনিক জনকণ্ঠের। বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল দর্শনকে ধারণ করে শিল্পপতি মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ উদ্যোগ নেন দৈনিক জনকণ্ঠ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশের। ১৯৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নানা বৈচিত্র্য নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে একসঙ্গে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল দৈনিক জনকণ্ঠ। প্রযুক্তির সঙ্গে দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিকতায় ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। যা দেশের সংবাদপত্র শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। দেশের সংবাদ প্রকাশের ধারায়ও এনেছে বৈচিত্র্য। যে কারণে দৈনিক জনকণ্ঠ দ্রুত পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে এবং সব মানুষের দৈনিকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৩৩ বছরে অনেক চড়াই উৎরাই বাধা-বিপত্তি পেরিয়েছে দৈনিক জনকণ্ঠ। সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সাফল্যের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে পত্রিকাটি। এ সবের মধ্যেও জনকণ্ঠ তার নীতি ও আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হয়নি। বরং পা রাখতে যাচ্ছে নতুন বর্ষে। দৈনিক জনকণ্ঠ মনে করে, এআইয়ের এই যুগে সংবাদ প্রকাশের ধারা, লেখনিতে ও রিপোর্টিংয়ে আরও পরিবর্তন আসা দরকার। প্রচলিত ধারার রিপোর্টিংয়ের পরিবর্তে আরও ‘স্মার্ট’ এবং বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিং হওয়া উচিত। দৈনিক জনকণ্ঠ সেই ‘স্মার্ট’ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ের ধারা প্রচলনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। জনকণ্ঠের এই প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। যার মূলে থাকবে উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি। দেশাত্মবোধের কারণে জনকণ্ঠ দেশের উন্নয়নের সংবাদকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দেশের মাইলফলক উন্নয়নগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে জনকণ্ঠ। প্রাধান্য পায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রযুক্তির বিকাশ ও অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান। জনকণ্ঠ মনে করে, দেশের অর্থনীতি এক সংকটজক পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে মন্দা, বেকরাত্বের বোঝা অর্থনীতিকে চেপে ধরেছে। তাই দ্রুত এই পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য অর্থনীতির বিকাশ জরুরি। আশার কথা, ১২ ফেব্রুয়ারি এক সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার দুই দশক পর ফের রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। ব্যতিক্রমী এক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। এতে দেশে অস্থিরতা কাটিয়ে স্বস্তিভাব ফিরে এসেছে। জনকণ্ঠ আশা করছে, তারেক রহমানের যোগ্য এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দ্রুতই দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে। দ্রুতই সংকটের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটবে। এক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান সংবাদপত্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে সংবাদপত্রের দায়িত্ব যেমন নীতি নির্ধাররকদের ভুলত্রুটি তুলে ধরে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা, তেমিন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথে উন্নয়ন অগ্রগতি তুলে ধরা। যে কারণে বিশ্বজুড়েই এখন ‘ডেভেলপমেন্ট জার্নালিজম’ বেশ গতি পেয়েছে। দেশকে উন্নত করতে হলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হলে উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। অবকাঠামো উন্নয়ত হলেই বিনিয়োগ বাড়বে। বিনিয়োগ বাড়লে বাড়বে কর্মসংস্থান। এতে মানুষের যেমন আয় বাড়বে, তেমনি বাড়বে দেশের অর্থনীতির আকার। তবেই দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে। দেশকে সেই পথে ধাবিত করতে সংবাদপত্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে উন্নয়নের পথে হাঁটতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বৈষম্য, অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি, প্রতারণা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সবার মধ্যে দ্রুত সম্পদশালী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যা সমাজে এক ধরনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। ধনী-গরিব বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করছে। এই বিশৃঙ্খলা বন্ধে সংবাদপত্রের ভূমিকা আরও জোরালো হওয়া উচিত। জোরালো হওয়া উচিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। যাতে প্রশাসন ও সমাজের অনিয়ম ও বৈষম্য উঠে আসে এবং সরকার তা সংশোধনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। জনকণ্ঠ মনে করে, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক সংবাদপত্রকে আজকাল সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসাবেও মনে করা হয়। একটি অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। বিতর্ক সৃষ্টির প্রয়াসে বিভ্রান্তিমূলক খবরে সামাজ এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বিভ্রান্তিতে পড়ে। বিশেষ করে দেশে অত্যন্ত সক্রিয় সমাজমাধ্যম (ফেসবুক, টুইটার, টিকটক প্রভৃতি) একের পর এক গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। ভুল তথ্যের প্রবাহে সত্যি তথ্য ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। সেই গুজব ও বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে সমাজকে বের করে এগিয়ে চলার পথে পথ নির্দেশনা সংবাদপত্রের অন্যতম দায়িত্ব। পাঠক সব সময় অপেক্ষায় থাকে নতুন নতুন বৈচিত্র্যপূর্ণ খবরের। বিশ্বজুড়ে কী পরিবর্তন ঘটছে তা জানার। সেগুলো তারা অনুসরণ করে নিজেরা এগিয়ে যেতে চায়। নতুন প্রজম্ম চায় প্রযুক্তি, বিনোদন ও খেলাধুলার নিত্যনতুন খবর। বিশ্বে নতুন নতুন কি প্রযুক্তি আসছে তার খরব। চায় প্রথাগত খবরের বাইরে ভিন্ন ধরনের সংবাদ। যা তার জীবন মানকে উন্নত করতে সাহায্য করবে। দৈনিক জনকণ্ঠ সেই বিভ্রান্তি নিরসন করে সামাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এবং একটি পরিবর্তনশীল সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। দেশ-বিদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা নিয়েই সংবাদপত্রের কাজ। দেশ-বিদেশের পারিপর্শ্বিক অবস্থারই প্রতিফলন ঘটে সংবাদপত্রে। হালে দেশে মুক্তমত, বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বেশি বেশি শোনা যাচ্ছে। গণমাধ্যম তখনই যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারবে, যদি সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা যায়। এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তথ্যে অবাধ প্রবাহ। তথ্যের প্রবাহ অবাধ না থাকলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে এবং বিভ্রন্তিকর খবর প্রকাশ বাড়বে। এজন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন প্রজম্মের সরকারকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশে যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে অবাধ তথ্য প্রবাহ, গণামধ্যমের স্বাধীনতা, মুক্তমত, বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র। সেই সঙ্গে প্রয়োজন আইনের শাসন নিশ্চিত করা। এগুলো নিশ্চিত করতে পারলেই দেশে প্রতিষ্ঠিত হবে সুশাসন। মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়, স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য দায়িত্বশীলতার কানো বিকল্প নেই। জনকণ্ঠ সব সময় দায়িত্বশীলতার পক্ষে অবস্থান করে পত্রিকা প্রকাশ করছে। দেশে-বিদেশে অনেক মুদ্রিত সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে। তার জায়গায় স্থান নিচ্ছে অনলাইন গণমাধ্যম। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মুদ্রিত সংবাদপত্র বন্ধ না হলেও, অনলাইন গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বরং হাজার হাজার অনলাইন গণমাধ্যমের কারণে নিউজ কভারের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এই বিশৃঙ্খলাকে কিভাবে শৃঙ্খলায় আনা যায় তার জন্য কাজ করতে হবে সরকার এবং গণমাধ্যমের নীতি নির্ধারকদের। সর্বোপরি, পৃথিবীব্যাপী ই-প্রিন্ট মিডিয়া এক সংকটজনক বাস্তবতার মুখোমুখি। তুলনামূলক বিচারে বাংলাদেশের প্রিন্ট মিডিয়া আরও কঠিন সময় পার করছে। এ কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও দৈনিক জনকণ্ঠ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এ লড়াইয়ের প্রধান শক্তি হচ্ছে জনকণ্ঠের অগণিত পাঠক। তাই নতুন বর্ষে পদার্পণে দৈনিক জনকণ্ঠ তার অগণিত পাঠকের প্রতি জানাচ্ছে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা।