dailyjanakantha.com · Feb 19, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260219T193000Z
কে বোঝাবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যে, তিনি নিজের মৃত্যুপরোয়ানা নিজেই সই করতে যাচ্ছেন? ইসরাইলি যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো—এটি কি কেবলই কূটনৈতিক চাপ, নাকি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস? আর যদি যুদ্ধ শুরুই হয়, নেতানিয়াহু কি শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবেন? যদি সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে ইসরাইল ও আমেরিকাকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রেখেছে ইরান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল তিন স্তরে গঠিত: ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তি, আঞ্চলিক মিত্রজোট, এবং নৌ ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশল। ইরানের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার মধ্যপ্রাচ্যে অন্যতম বৃহৎ। ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রয়েছে ইরানের। গত কয়েক বছরে ইরান হাইপারসোনিক প্রযুক্তি ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইরাকে শিয়া মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনে হুথি—এই ‘এক্সিস অফ রেজিস্টেন্স’ নেটওয়ার্ক ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর বহুমুখী চাপ তৈরি করতে পারে। এতে যুদ্ধ একাধিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। এছাড়াও পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে একটি বড় কৌশলগত অস্ত্র। তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে বৈশ্বিক বাজার কেঁপে উঠবে, যার চাপ পড়বে সরাসরি পশ্চিমা অর্থনীতিতে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের দাবি, ‘হোমফ্রন্ট কমান্ড’-এর সঙ্গে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন নেতানিয়াহু। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, ইরান ট্রাম্পের ‘রেডলাইন’ মানতে রাজি নয়। এদিকে অঞ্চলটিতে বিমানবাহী রণতরি মোতায়ন করেছে আমেরিকা। এসব পদক্ষেপ কি কেবলই চাপ তৈরির জন্য, নাকি যৌথ হামলার প্রস্তুতি? ইসরাইলের সন্দেহ, পারমাণবিক আলোচনায় ইরান কালক্ষেপণ করছে। অন্যদিকে ইরানের অভিযোগ—ইসরাইল আলোচনাকে ভন্ডুল করতে চায়। বাস্তবতা হলো, দুই পক্ষই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ মানে হবে পুরো পশ্চিম এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে দেওয়া। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সামরিক প্রস্তুতি হয়তো কূটনৈতিক চাপের অংশ বা দরকষাকষির অবস্থান শক্ত করার কৌশল। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যদি যৌথ হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটি শুধুই একটি সামরিক অভিযান হবে না; বরং পুরো আঞ্চলিক শক্তিকে উসকে দেবে। ইরান গত এক দশকে এমন এক প্রতিরক্ষা ছক তৈরি করেছে যেখানে সরাসরি আঘাত মানেই বহু দিক থেকে পাল্টা আঘাত। ইসরাইল ও আমেরিকা হয়তো যৌথভাবে আকাশপথে আধিপত্য দেখাতে পারবে, কিন্তু স্থল ও আঞ্চলিক প্রতিরোধের সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।