dailyjanakantha.com · Feb 19, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260219T181500Z
ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহান্তেই অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য সামরিক বাহিনী প্রস্তুত বলে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে নৌ মহড়া চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার ওমান সাগরে ইরান ও রাশিয়া এই যৌথ মহড়া চালায়। ইরানের নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসুদলুর জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে ইরানি নৌবাহিনী ওমান সাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়াটি পরিচালনা করা হয়। খবর সিএনএন ও তাসনিম নিউজের। এদিকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, সম্ভাব্য সামরিক হামলার আগে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া পেন্টাগনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সেনা কিংবা কর্মীকে সরানো হলেই যে হামলা হবে বিষয়টি তেমন নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি মাসের শেষের দিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ব্রিফিংয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক কারণ ও যুক্তি রয়েছে, তবে কূটনীতিই সবসময় প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। সম্ভাব্য এ হামলা ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে হবে কি না সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। লেভিট আরও বলেন, গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল খুব সফল অভিযান। তিনি বলেন, ইরানের উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ইরান ইস্যুতে বৈঠক হয়েছে বলে সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা ও এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অঞ্চলটিতে মোতায়েন সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থানে থাকবে বলেও জানিয়েছেন তারা। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন করা সব সামরিক বাহিনী মার্চের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থানে থাকবেন বলেও জানান তারা। এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই দেশটির কাছে বিমান ও নৌ সামরিক সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী- এফ-৩৫ লাইটনিং টু, এফ-২২ র্যাপ্টর এবং এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনসহ গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে ৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এমন পদক্ষেপের মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেনেভায় গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পরমাণু আলোচনায় ওয়াশিংটন ও তেহরান অগ্রগতি করেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন- এখনও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি আছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মঙ্গলবারের আলোচনা এ মাসের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকের তুলনায় বেশি গঠনমূলক ছিল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির জন্য দুই পক্ষ নির্দেশনামূলক নীতিমালায় একমত হয়েছে বলেও জানান তিনি। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা এমন সময় হচ্ছে যখন ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ইরানের আশপাশে ভারি সামরিক শক্তি জড়ো করছে। তেহরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা এবং জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগে চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এদিকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। এর জন্য এখন শুধু অপেক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্ভাব্য সবুজ সংকেতের। বৃহস্পতিবার ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কেএএনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দেবেন কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ইসরাইলের হামলার বিষয়টি সামনে এলো। ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর মূল্যায়নে দেখা গেছে- ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে জেনেভায় সাম্প্রতিক আলোচনার পর ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নে দেখা গেছে, জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় দফায় আলোচনার পর ইরানের প্রকাশ্য বিবৃতির বিপরীতে, এখনো উল্লেখযোগ্য বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে, যা আমেরিকা মানবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের নিজস্ব ভূখ-ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার দাবি। ইরানের নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসুদলুর জানান, ইরান ও রাশিয়ার মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো ওমান সাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। যৌথ সামুদ্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং সম্মিলিত অভিযানের নকশা ও বাস্তবায়নে দুই দেশের নৌ বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা এই মহড়ার অনন্য লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন যে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যকলাপ মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপে সমন্বয় এবং সমন্বয় গড়ে তোলা। বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেল ট্যাঙ্কার রক্ষা, সেইসঙ্গে সামুদ্রিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এই মহড়ার মূল অংশ। মহড়ায় ইরানি কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসুদলুর। তিনি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করা, প্রতিবেশী দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌচলাচল নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এদিকে, রাশিয়ার নৌবহরের কমান্ডার বন্দর আব্বাসে তার উপস্থিতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ইরানের আতিথেয়তার প্রশংসা করেছেন। তিনি উভয়পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতার স্তর দেখায় যে তারা যৌথভাবে অনেক সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ পরিচালনা এবং সমাধান করতে পারে। রাশিয়ার কমান্ডার আরও বলেন, আমরা বিশেষায়িত মহড়া এবং সামুদ্রিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানসহ যে কোনো অঞ্চলে আরও যৌথ মহড়া পরিচালনা করতে প্রস্তুত।