dailyinqilab.com · Feb 14, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260214T183000Z
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেছেন, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানকে অবশ্যই আলেম-ওলামাদের সহযোগিতা নিতে হবে। সরকারের বেতন-ভাতা গ্রহণ করে বিরোধী শক্তির তাঁবেদারি করা চলবে না। মাদরাসাসমূহ হতে হবে রাজনীতিমুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা তারেক রহমানকে মনোনীত করেছেন এবং পছন্দ করেছেন বিধায় তিনি তাঁকে সেভাবেই তৈরি করেছেন, তাঁর জবান থেকে ন্যায় ও ইনসাফের কথা বের হওয়ার পেছনে আল্লাহর ইশারা ছিলো। তারেক রহমানের কথা ও মনোভাব মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে, অপরদিকে জামায়াত নেতাদের বক্তব্যই তাদেরকে মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। গতকাল দুপুরে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে সংগঠনের সভাপতি বলেন, সকল কিছু আল্লাহর নির্দেশে হয়, তিনি যা চাইবেন, তাই হবে, এ বিশ্বাস নিয়ে তারেক রহমান সামনে অগ্রসর হয়েছেন। তিনি যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন আলেম ওলামাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। তিনি দেশে আসার পরে প্রথম সমাবেশে একজন স্থানীয় ইমামকে যে সম্মান দেখিয়েছিলেন, তা পুরো দেশবাসী দেখেছে। পরবর্তীতে তিনি জাতির উদ্দেশে যে ভাষণটি দিয়েছিলেন সেখানে তাঁর অবস্থান সুস্পষ্টকরণের জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছিলেন, তন্মধ্যে প্রথমেই বলেছিলেন, রাসূল (স.) এর আদর্শ অনুযায়ী মদীনা সনদের ন্যায় বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবেন। আল্লাহ তা‘আলা তারেক রহমানকে মনোনীত করেছেন এবং পছন্দ করেছেন বিধায় তিনি তাঁকে সেভাবেই তৈরী করেছেন, তাঁর জবান থেকে ন্যায় ও ইনসাফের কথা বের হওয়ার পেছনে আল্লাহর ইশারা ছিলো। যার ফলে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের সমর্থনে তিনি বিজয় লাভ করেছেন। জামায়াতে ইসলামী আলেম-ওলামাদের লেবাস ধারণ করলেও আল্লাহর তরফ থেকে বরকতপ্রাপ্ত হয়নি বিধায় তাদের জবান থেকে ‘রোজা পূজা একই’ এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও ইসলামগর্হিত কথা বের হয়ে এসেছে। তারেক রহমানের কথা ও মনোভাব মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে, অপরদিকে জামায়াত নেতাদের বক্তব্যই তাদেরকে মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর অভ্যন্তর যদি পরিচ্ছন্ন না রাখা যায়, তাহলে তারেক রহমান যতই চেষ্টা করুক না কেন, তিনি স্বস্তিতে থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, আমাদের আরো সতর্ক হতে হবে। নির্বাচনে আগে যতটা না সংকট ছিলো এখন আরো বেশি প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে। শত্রুরা কিন্তু বসে নেই। আমাদের প্রচেষ্টা ও শ্রমের মর্যাদা টিকিয়ে রাখতে অব্যাহত চক্রান্তের মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল দফতরে সহীহ আক্বিদার আলেমগণের বিচরণ থাকা বাঞ্ছনীয়। যেসব দফতর ইতোমধ্যে ভ্রান্ত আক্বিদার অপশক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, তাদের অপসারণের মাধ্যমে সেসব দফতরসমূহ মুক্ত করতে হবে। আর এ ব্যাপারে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ভ্রান্ত ও নামধারী আলেমদের নগ্নহস্তক্ষেপ থেকে দেশের দ্বীনি শিক্ষা তথা মাদরাসা শিক্ষাকে রক্ষার ব্যাপারে জমিয়াত আপোষহীন ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। জমিয়াত সভাপতি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরো দূরবস্থায় নিপতিত করেছে। অত্যন্ত নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থায় দেশের হাল ধরতে চলেছেন তারেক রহমান। এত্থেকে উত্তরণের জন্য তাঁকে কিছুটা সময় দিতে হবে এবং আমাদের সংঘবদ্ধ সহযোগিতা করতে হবে। সকলের বেতন-ভাতা যখন বৃদ্ধি হবে, সাথে সাথে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদেরও বেতন ভাতা বৃদ্ধি পাবে ইন শা-আল্লাহ। ধিরে ধিরে আমারদের সকল দাবি বাস্তবরূপ নেবে। সরকারের বেতন-ভাতা গ্রহণ করে বিরোধী শক্তির তাঁবেদারি করা চলবে না। মাদরাসাসমূহ হতে হবে রাজনীতিমুক্ত। তিনি বলেন, আপনি আমি বসে ছিলাম, শত্রুরা কিন্তু বসে ছিলো না। প্রথমেই তারা শিক্ষা সেক্টর দখল করেছে, অতঃপর মাদরাসার প্রিন্সিপাল, ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিংবডি পরিবর্তনের মাধ্যমে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের একটি বলয় সৃষ্টি করেছে। এমনকি মসজিদে ইমাম খতীব পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজে তাদের আক্বিদা প্রতিষ্ঠার স্থায়ী ব্যবস্থা করণের পরিকল্পনাও করেছিলো তারা। এরা কিন্তু অধিকাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফল হয়েছে। সেসব যায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। পুনরায় সহীহ আক্বিদা ও আহলে সুন্নতের মতাদর্শীদের দ্বারা ঢেলে সাজাতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদরাসাসমূহ এদেশের হক্কানি আলেম-ওলামা পীর মাশায়েখগণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। জামায়াতে ইসলামী মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠা কিংবা এ শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেনি। সুতরাং আলেম-ওলামাদের হাতে তিল তিল করে গড়ে তোলা কষ্টার্জিত প্রতিষ্ঠানসমূহে মাঝখানে এসে কেউ নিজস্ব মত ও পথ সংযোজন করবে, অযাচিত খবরদারি করবে তা হতে দেয়া যাবে না। যারা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন তাঁদের মতাদর্শেই মাদরাসাসমূহ পরিচালিত হতে হবে। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ যেসব বিষয়ে পরিবর্তন করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে তাদের কেন্দ্রিক করার অপচেষ্টা চালিয়েছে সে জায়গাসমূহ সংশোধনের জোর দাবি জানিয়ে জমিয়াত সভাপতি বলেন, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর অভ্যন্তর যদি পরিচ্ছন্ন না রাখা যায়, তাহলে তারেক রহমান যতই চেষ্টা করুন না কেন, তিনি স্বস্তিতে থাকতে পারবেন না। ইনকিলাব সম্পাদক বলেন, ৯২ শতাংশ মুসলমানের রাষ্ট্রনেতা তারেক রহমান। তিনি মদীনার ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে চান। মদীনার ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ভেতরে যোগ্য ও বিজ্ঞ সহীহ আক্বিদার আলেমের প্রয়োজন আছে। সাধারণ পিএইচডি এমফিল ডিগ্রিধারী, অক্সফোর্ড, হার্বার্ট স্কলারগণের দ্বারা হবে না। আগামীতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন করবেন বলে তারেক রহমান ওয়াদাবদ্ধ। আমরা আশাবাদী সেখানে তিনি কিছু যোগ্য আলেমদের রাখবেন। এতে তিনি যে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চান, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করতে চান, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান, সে কাজটি করা তাঁর জন্য সহজতর হবে। কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আলেম ওলামাদের সহযোগিতার বিকল্প নেই। তারেক রহমানের মনে রাখতে হবে তাঁর প্রতিপক্ষ একটি নামধারী ইসলামী দল। ইসলামকে ব্যবহার করে তারা যুগ যুগ ধরে রাজনীতি করে যাচ্ছে। তারা যে বিকৃত ইসলাম মাদরাসার বইসহ সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে, এত্থেকে দেশকে রক্ষার জন্য প্রকৃত ইসলামী ব্যক্তিত্ব তথা সহীহ আক্বিদাসম্পন্ন আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, ইসলামী স্কলারদের যথাযথ স্থানে বসিয়ে স্বপ্নের দেশ গড়ার পথে যাত্রা করবেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুমা খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এমনটিই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। জমিয়াত মহাসচিব প্রিন্সিপাল শাব্বীর আহমেদ মোমতাজীর সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, প্রিন্সিপাল মাওলনা নজরুল ইসলাম আল মারুফ, প্রিন্সিপাল মাওলানা আ খ ম আবুবকর সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু জাফর মো. ছাদেক হাসান, প্রিন্সিপাল মাওলানা জসিম উদ্দিন আজহারী, প্রিন্সিপাল মাওলান বদিউল আলম সরকার, প্রিন্সিপাল মাওলান রেজাউল হক, ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা নূরুল হক, হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান, মুহাদ্দিস মাওলানা মোর্শেদ আলম সালেহী, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। সভায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মুফতী মাওলানা মাহবুবর রহমান।