dailyinqilab.com · Feb 15, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260215T143000Z
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনটি ২০২৪ সালের জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ত্বরান্বিত হয়েছিল। তবে সেই অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া তরুণ নেতৃত্বাধীন 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' (এনসিপি) ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলের মধ্যে মাত্র ছয়টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী দেখা গেছে, ভোটাররা বিপুলভাবে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) বেছে নিয়েছেন। বিএনপি বড় ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটকে পরাজিত করেছে, যে জোটের অন্যতম শরিক দল ছিল এই এনসিপি। বিএনপির তারেক রহমান দেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তার দল ইতোমধ্যেই তিনবার (সর্বশেষ ২০০১-২০০৬) দেশ পরিচালনা করেছে।প্রথমবার ভোট দেওয়া অনেক তরুণ বাংলাদেশি এই নির্বাচনকে 'ঐতিহাসিক' বলে বর্ণনা করলেও এটি তাদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বলে মনে করছেন। শিক্ষার্থী আফসানা হোসেন হিমি আল জাজিরাকে বলেন, ‘‘জেন-জি প্রজন্ম হিসেবে আমরা এত রক্তপাত এবং প্রাণহানির পর আশানুরূপ প্রতিনিধিত্ব ও ফলাফল পাইনি।’’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘‘তা সত্ত্বেও আমরা খুবই আশাবাদী। তরুণ প্রজন্ম থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন এবং আমরা আশা করি তারা ভালো কিছু করবেন।’’ তিনি এনসিপির ছয়জন বিজয়ীর কথা উল্লেখ করে এই মন্তব্য করেন। অনেক তরুণ বাংলাদেশির মতে, নির্বাচনের আগে এনসিপি যথেষ্ট বড় জনসমর্থন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ‘‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, তারা তা পূরণ করতে পারেনি। এনসিপির জামায়াতের সাথে জোট করাটাকে অনেকে বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে দেখছে এবং আমাদের মতো অনেক তরুণ ভোটার তাদের সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’ এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, দলটি বিরোধী দলে থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং এক বছর পর অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে নজর দেবে। ‘একটি নতুন শুরু’১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দক্ষিণ এশীয় এই দেশটির জনসংখ্যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম তরুণ। এর মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশ—অর্থাৎ ৫ কোটি ৬০ লাখ মানুষের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট কয়েক মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে এই নির্বাচনের ফলাফলকে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘের মতে, শেখ হাসিনার পতনের আগে তার নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। সেই দমন-পীড়নের দায়ে হাসিনাকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারতের নয়া দিল্লিতে নির্বাসনে থাকা হাসিনা এবং তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া কয়েক দশক ধরে দেশটির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, তিনিও ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশ শাসন করেছেন। আগামী মঙ্গলবার শপথ নিতে যাওয়া তারেক রহমান অঙ্গীকার করেছেন যে, তার প্রশাসন আইনের শাসনকে অগ্রাধিকার দেবে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। যেকোনো মূল্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। দল, ধর্ম, বর্ণ বা ভিন্নমত নির্বিশেষে কোনো অবস্থাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ গ্রহণযোগ্য হবে না। ন্যায়বিচারই হবে আমাদের মূলনীতি।’’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, জামায়াত-এনসিপি জোট সেই তরুণ ভোটারদের দূরে ঠেলে দিয়েছে যারা হাসিনার পতনের পর একটি নতুন রাজনৈতিক শ্রেণি চেয়েছিল। আহমেদ বলেন, ‘‘অনেকেই এটিকে নতুন রাজনীতির বদলে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন। এই সিদ্ধান্ত তরুণদের ভোটকে বিভক্ত করেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে শক্তিশালী করেছে, যাকে আরও সংগঠিত এবং দেশ পরিচালনায় সক্ষম বলে মনে হয়েছে।’’ তবে শিক্ষার্থী ফারহান উল্লাশের কাছে এই ভোটটি ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি পরিবর্তনের মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘‘সব মিলিয়ে এই নির্বাচনটি ছিল আমাদের কাছে একটি স্বপ্নের মতো, বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন শুরু। আমি জানি বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আমি আশা করি তারা আমাদের কথা শুনবে।’’