dailyinqilab.com · Feb 16, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260216T194500Z
ইনকিলাব ডেস্ক : ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো অধিকৃত পশ্চিম তীরে ভূমি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। দেশটির কট্টরপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব রোববার সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইনি প্রক্রিয়া মূলত ফিলিস্তিনিদের তাদের পৈতৃক ভূমি থেকে উচ্ছেদ এবং পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। ১৯৮৪ সাল থেকে স্থগিত থাকা এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মালিকানা প্রমাণের সুযোগ সীমিত করে তাদের জমি দখল করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। ইসরাইলি আবাসন অধিকার সংস্থা ‹বিমকোম›-এর মতে, পশ্চিম তীরের প্রায় ৭০ শতাংশ ভূমির কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন নেই। ব্রিটিশ শাসনামল বা জর্ডান শাসনের সময় মাত্র ৩০ শতাংশ ভূমির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছিল। বর্তমান ইসরাইলি সরকার এখন ফিলিস্তিনিদের কাছে এমন সব নথিপত্র দাবি করছে যা সংগ্রহ করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার যুদ্ধের সময় বাস্তুচ্যুত হওয়ায় বা যুগের পর যুগ ধরে বংশপরম্পরায় ভূমি ব্যবহার করায় তাদের কাছে কোনো দাপ্তরিক কাগজ নেই। ফলে প্রমাণের অভাবে এই বিশাল পরিমাণ ভূখণ্ড ডিফল্টভাবে ইসরাইলি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন হয়ে যাবে। এর আগে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একই ধরনের ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে, নিবন্ধিত জমির মাত্র ১ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের নামে হয়েছে, আর বাকি ৯৯ শতাংশই ইসরাইলি রাষ্ট্র বা ব্যক্তিগত মালিকদের দখলে চলে গেছে। ইসরাইলি বসতিবিরোধী সংগঠন ‹পিস নাউ› এই প্রক্রিয়াকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পূর্ণ দখলদারিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০২৪ সালে এক রুলে জানিয়েছিল, ইসরাইলের এই ধরনের ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ এবং জনসংখ্যা স্থানান্তর সম্পূর্ণ অবৈধ। তা সত্ত্বেও বেইজিং বা ওয়াশিংটনের চাপের তোয়াক্কা না করে ইসরাইল তাদের বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্য পূরণে আইনি পথেই এগোচ্ছে। ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর করা একটি আবেদন গত মাসে খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে এ নিয়ে কোনো রুল জারি করা অকালপক্ক হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অত্যন্ত ছোট একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতকে আরও উসকে দেবে। অপর এক খবরে বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটিতে ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলায় সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র- গত ডিসেম্বরেই নেতানিয়াহুকে এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতিও জোরদার করে চলেছে ওয়াশিংটন। তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ডিসেম্বরের এক বৈঠকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানিয়েছিলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে গেলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর ইসরাইলি হামলায় ওয়াশিংটন সমর্থন দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গণমাধ্যম রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন আর ইসরাইল হামলা চালাতে পারবে কি নাÍ সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এমন অভিযানে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়েই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এমনটাই জানিয়েছে। প্রস্তাবিত সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলোর পাল্লা বাড়াতে আকাশে জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী সার্বভৌম দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিশ্চিত করার জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা। রয়টার্স, আল-জাজিরা।