dailyinqilab.com · Feb 16, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260216T194500Z
বিএনপির জন্য আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রায় ২০ বছর পর ভূমিধস বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তার ঐতিহাসিক স্বপ্নীল ভাষণ ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান (আমার একটি পরিকল্পনা আছে) ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি’র যাত্রা শুরু হবে। শপথ অনুষ্ঠানে কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতা উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর নতুন সরকার ও সংসদ পেতে যাচ্ছে দেশ। নতুন এমপিদের বরণ করে নিতে প্রস্তুতি শেষ করেছে জাতীয় সংসদ ভবনও। আজ মঙ্গলবারের নতুন মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ ভবনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে। দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। একবার সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকবার সংস্কারের জন্য। জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হচ্ছে আজ। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান ও তার পরিবারের ঝুলিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক রেকর্ড। শপথের পর থেকে নতুন সরকারের স্বপ্নের যাত্রা শুরু হচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নিতে যাচ্ছেন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নতুন মন্ত্রিসভা। এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ইচ্ছা অনুযায়ী প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বে অল্প কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবার আছে, যাদের তিন সদস্য কোনো দেশের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধানের গুরু দায়িত্ব সামলেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের শপথের মধ্য দিয়ে এই পরিবারগুলোর তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে জিয়া পরিবারও। বাবা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর এবার বাংলাদেশ পরিচালনার ভার নিচ্ছেন ছেলে তারেক রহমান। বাংলাদেশে জিয়া পরিবার : গত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। সেনাপ্রধান হন তিনি। এরপর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করা হয় তাকে। বিএনপির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এ এস এম সায়েম পদত্যাগ করলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হন। গত ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজে চেয়ারম্যান হিসেবে থেকে নতুন রাজনৈতিক দল-বিএনপি গঠন করেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে তার প্রতিষ্ঠিত দলটি এবার নিয়ে চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলো। গত ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন খালেদা জিয়া ছিলেন পুরোদস্তুর গৃহিণী। স্বামীহারা খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। যুক্ত হন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। রাজনীতিতে এসে রাজপথের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান খালেদা জিয়া। চষে বেড়ান দেশের নানা প্রান্ত। এর ফলও পান। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর তিনি তিন দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বিএনপির ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের একাধিক সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে কখনোই কোনোটিতে না হারার অনন্য রেকর্ডও আছে তার দখলে। গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মায়ের মৃত্যুর পর তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হন। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তার নেতৃত্বে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এখন বাবা-মায়ের পর তিনিও দেশ চালানোর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। এর আগে গত ডিসেম্বরে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ছেড়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর সংসদ ভবনের নবম তলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন শপথ নেয়া সদস্যরা। পরে সংসদীয় দলের নেতা প্রেসিডেন্টের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। প্রেসিডেন্ট তখন তাকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। এরপর আজ বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ হবে। নিয়মানুযায়ী, বর্তমান প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের কমবেশি দেশি-বিদেশি এক হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। নতুন সরকারে তালিকায় কারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হচ্ছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করেছে বিএনপি। এবারে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নতুন প্রজন্মের এমপিদের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ-সদস্য না হয়ে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পান বা মন্ত্রী হন তাদের বলা হয় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬-এর ২ ধারায় বলা রয়েছেÑ প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন। মন্ত্রিসভা ৪৫ জনের হলে সে হিসাবে টেকনোক্র্যাট কোটায় চারজনকে মন্ত্রী করা যাবে। গত সোমবার সকালে সচিবালয়ে নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। একবার সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকবার সংস্কারের জন্য। আলহামদুলিল্লাহ, দেশের এক সন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল স্কন্ধে বিশাল দায়িত্ব পড়েছে, আমি তার ভার মেটানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ এবং অতিতে যেভাবে কাজ করেছি, সেই একইভাবে কাজ করব, আপনারা সবাই সহায়তা করবেন। দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। তিনি বলেন, সকালে একবার তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তারপর সংস্কারের জন্য শপথ নেবেন এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ হবে। এই মুহূর্তে আমরা শপথ অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করছি। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে। আজকে কোনো তালিকা পাওয়া যাবে কি-না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, নতুন মন্ত্রীদের নামের তালিকা তার ওপর নির্ভর করছে। আমরা যোগাযোগ স্থাপন করব তারপর যখন বলা হবেÑ তখন নামগুলো সবাই জানতে পারবে ইনশাআল্লাহ। কারণ কতজনের মন্ত্রিসভা হবে সেটি তারাই ভালো বুঝবেন। তিনি বলেন, আমাদের একটা প্রস্তুতি থাকে তারপরও কমবেশি হতে পারে। নতুন কিছু নেই তালিকা পাওয়ার পরে তাদের জন্য যে অন্যান্য সাপোর্ট যেমনÑ একজন মন্ত্রীর জন্য একটি গাড়ি লাগে, একজন দেহরক্ষী থাকেন, তার বাসস্থান কোথায় হবে, সেগুলোর ব্যবস্থা করতে হয় এবং তার সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হয়, তার অফিসকে অ্যালার্ট করতে হয়, তার নিজস্ব যে সমস্ত অফিসার কর্মচারী কাজ করবেন তাদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হয়, এ সমস্ত কিছু আমাদের দেখতে হয়। এসব বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই সরকার সবসময় প্রস্তুত থাকে, সরকার ফেল করে না। আমরাও ফেল করব না। গতকাল সোমবার সকাল থেকে সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে দুই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির নানা আয়োজন দেখা গেছে। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মেলেনি কারোরই। পুরো সংসদ ভবন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সবগুলো প্রবেশ গেটে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। মূল প্রবেশ গেটটি বন্ধ রয়েছে। ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। প্রধান সড়ক থেকে সংসদের মূল ভবনের সামনে লোকজনকে কাজ করতে দেখা গেছে। শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও শপথ গ্রহণ কক্ষে শপথ অনুষ্ঠানসহ অধিবেশনের প্রস্তুতির কাজ চলছে। ভবনের অভ্যন্তরে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে এবং সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সংসদের বাইরে সদস্যদের বরাদ্দ করা কক্ষগুলো সাজানোর কাজও চলছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের দিন গণভবনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ ভবনেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। সংসদ ভবন সূত্র জানিয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। নির্বাচনের দুদিন পর শনিবার থেকে সেখানে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সাংবাদিকদের বলেন, আজ মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথ। সেখানকার পরিস্থিতি এখনো সাধারণ দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। সংসদ ভবনের সামনে আগের মতোই রয়েছে নানা দোকান। সড়কও রয়েছে স্বাভাবিক। চলছে নানা যানবাহন। সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেয়ার বিধান রয়েছে। শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন। জানা গেছে, করব কাজ, গড়ব দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এবারে সংসদ-সদস্য নন এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত হেভিওয়েট নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভার আকার বেশি বড় হবে না। ৩৫ থেকে ৪৫ সদস্যের মধ্যে থাকতে পারে মন্ত্রিসভা। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষ করেছেন। তবে কাকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে তা সংসদের শপথের পরে প্রেসিডেন্টকে তালিকা পাঠানো হবে। নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর সিনিয়র নেতারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন এবং ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলীয় প্রধান। বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, বৈঠকে তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নেন। বিশেষ করে মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন তা নিয়ে পরামর্শ করেন তিনি। এছাড়া সংসদ-সদস্যদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠনসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও প্রফেসর এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মো. শাজাহান, ড. রেজা কিবরিয়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন। এ ছাড়াও, একটি পত্রিকার সম্পাদক, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক প্রফেসর মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও ঢাকা মহানগর উ