dailyinqilab.com · Feb 15, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260215T061500Z
কিশোরগঞ্জের দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনাগুলো স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ড. এম. ওসমান ফারুক কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর করিমগঞ্জের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী কর্ণেল (অব:) ডা. জেহাদ খান, যিনি দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য। সাক্ষাতের সময় ডা. জেহাদ খান বিজয়ী প্রার্থীর হাতে মিষ্টি তুলে দেন এবং তাঁকে নিজ হাতে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তিনি ড. এম. ওসমান ফারুকের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও এ ধরনের আন্তরিক আচরণ স্থানীয় জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা বহন করেছে।এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে ঘিরে করিমগঞ্জ-তাড়াইল এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশংসার সুর শোনা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, মতাদর্শগত ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে।ড. এম. ওসমান ফারুক এর আগেও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় দেশের শিক্ষা খাতে নানা নীতি ও সংস্কার কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল উল্লেখযোগ্য। এবারের নির্বাচনে তিনি মোট এক লাখ ১২ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডা. জেহাদ খান পেয়েছেন এক লাখ ২ হাজার ৪৭৬ ভোট। ফলে দুজনের ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজারের কিছু বেশি।কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৪ জন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ১৫১টি কেন্দ্রে। নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল সন্তোষজনক। স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, এ আসনে সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে নির্বাচন শেষে পরস্পরের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ডা. জেহাদ খানের এই পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে সহনশীলতার বার্তা বহন করেছে।নির্বাচন-পরবর্তী সহনশীল আচরণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এতে করে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে এবং সহিংসতা বা উত্তেজনার সম্ভাবনা কমে যায়। শুধু কিশোরগঞ্জ-৩ নয়, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনেও দেখা গেছে একই ধরনের সৌজন্য বিনিময়ের দৃশ্য। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন। নির্বাচন শেষে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান।এ আসনে অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন পেয়েছেন এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ ভোট। অপরদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল পেয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৯৭৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান ছিল উল্লেখযোগ্য।কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৪ জন এবং ভোটকেন্দ্র ছিল ১৫১টি। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হবে এটাই তো স্বাভাবিক। তবে ভোটগ্রহণ শেষে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচায়ক। এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জের দুটি আসনে যে সৌজন্য ও সহমর্মিতার চিত্র দেখা গেছে, তা অন্যদের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে। এতে করে রাজনীতিতে বিভাজনের পরিবর্তে সহযোগিতা ও সম্মানের সংস্কৃতি গড়ে ওঠবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এখন সাধারণ মানুষের দৃষ্টি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে। ভোটাররা আশা করছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিক ভূমিকা রাখবেন। ড. এম. ওসমান ফারুক ও অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীনের কাছে এলাকার মানুষ শিক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন। একই সঙ্গে তারা চান, বিরোধী প্রার্থীরাও ইতিবাচক ভূমিকা রেখে এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতা করবেন। কিশোরগঞ্জের দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকতে পারে। ড. এম. ওসমান ফারুক ও অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীনের প্রতি তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এমন শুভেচ্ছা জানানোর উদ্যোগ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও সুসংহত করেছে।এই ধরনের ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতেও সুস্থ পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহলের।