NewsWorld
PredictionsDigestsScorecardTimelinesArticles
NewsWorld
HomePredictionsDigestsScorecardTimelinesArticlesWorldTechnologyPoliticsBusiness
AI-powered predictive news aggregation© 2026 NewsWorld. All rights reserved.
Trending
IranStrikesIranianIsraeliTrumpPowersCrisisConflictMilitarySupremeRegionalLeaderFacesMarchEmergencySecurityTimelineTargetsCouncilRefundDigestSundayChinaDeath
IranStrikesIranianIsraeliTrumpPowersCrisisConflictMilitarySupremeRegionalLeaderFacesMarchEmergencySecurityTimelineTargetsCouncilRefundDigestSundayChinaDeath
All Articles
আগামীর বাংলাদেশ : প্রত্যাশা ও শঙ্কা
dailynayadiganta.com
Published about 6 hours ago

আগামীর বাংলাদেশ : প্রত্যাশা ও শঙ্কা

dailynayadiganta.com · Mar 1, 2026 · Collected from GDELT

Summary

Published: 20260301T161500Z

Full Article

জুলাই বিপ্লবের যে তরুণসমাজ ঐক্যের শক্তি দেখিয়েছিল, তাদের সেই ঐক্য আরো সুদৃঢ় করা এখন সময়ের দাবি। কোনো একক রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে এ ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বিশেষ করে যদি কোনো দল তার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রক্ষণশীল অবস্থানে স্থির থাকে, বিশেষত নারীর অংশগ্রহণ ও সম-অধিকারের প্রশ্নে, তবে তা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। সেই সাথে দেশ-বিদেশে অস্বস্তি ও আপত্তির জন্ম দিতে পারে Published At : Sunday March 1 2026, 14:19 Updated At : Sunday March 1 2026, 14:19 আগামী বাংলাদেশের কথা ভাবলে আমাদের সামনে দু’টি সমান্তরাল ছবি ভেসে ওঠে, এক দিকে সম্ভাবনার দীপ্ত আলো, অন্য দিকে অস্থিরতার ছায়া। ইতিহাসের এমন এক সন্ধিক্ষণে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সিদ্ধান্তগুলো শুধু সরকারের নয়— সমাজ, রাজনৈতিক শক্তি, নাগরিক সমাজ, প্রবাসী বাংলাদেশী সবার।প্রত্যাশা১. জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র : মানুষ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়, যেখানে ক্ষমতা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে না দাঁড়ায়। নির্বাচন হবে বিশ্বাসযোগ্য। ফলের আগে প্রক্রিয়ার ওপর মানুষ আস্থা রাখতে পারবে। প্রশাসন হবে সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ; ব্যক্তি হিসেবে যার রাজনৈতিক দর্শন যাই থাকুক, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি থাকবেন সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন।রাষ্ট্রের সেবা নিতে আসা মানুষটি কোন দল, মত বা ধর্মের— তা কখনো বিবেচ্য হতে পারে না। রাষ্ট্রের চোখে তার একটাই পরিচয়, সে একজন নাগরিক। তার সাংবিধানিক অধিকার প্রাপ্য ও অবিচ্ছেদ্য; কোনো অবস্থাতে তাকে তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। নিজের প্রাপ্য কাজ আদায়ে তাকে যেন ঘুষ দিতে না হয়, এটি শুধু নৈতিক আহ্বান নয়, রাষ্ট্রের মৌলিক দায়। যেখানে ঘুষ বা দুর্নীতি থাকবে, সেখানে কঠোর ও কার্যকর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কখনো ব্যক্তিগত সুবিধা বা অবৈধ অর্থ উপার্জনের পথ হতে পারে না। কারণ রাষ্ট্রীয় পদ মানে প্রিভিলেজ নয়, এটি জবাবদিহি, ন্যায় এবং সেবার অঙ্গীকার।এমন একটি রাষ্ট্র আগামীর বাংলাদেশের প্রকৃত প্রত্যাশা, যেখানে নাগরিকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে, আইন সবার জন্য সমান হবে এবং রাষ্ট্র তার জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধে অবিচল থাকবে।একই সাথে মানুষ শুধু নিরপেক্ষ প্রশাসন চায় না; তারা চায় তাদের জীবনমানের দৃশ্যমান উন্নতি। নিরাপদ আয়, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সহজ প্রবেশাধিকার— এগুলো সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের বাস্তব প্রশ্ন। অর্থনৈতিক অগ্রগতি কেবল পরিসংখ্যানের ভাষায় নয়, পরিবারের ভাতের হাঁড়িতে, সন্তানের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তায় প্রতিফলিত হতে হবে।শিল্পায়ন এখানে কেন্দ্রীয় বিষয়। কাঁচামাল রফতানির অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে উচ্চমূল্য সংযোজন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ— এসব ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। টেকসই শিল্পভিত্তি তৈরি হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, রফতানি বৈচিত্র্যময় হবে, আর অর্থনীতি বাইরের ধাক্কায় কম নড়বড়ে হবে। যেভাবে শিল্প রূপান্তর নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে লেখালেখি হচ্ছে, সেই চিন্তাধারা বাস্তব আলোচনার কেন্দ্রে আসা প্রয়োজন।একই সাথে জাতীয় নিরাপত্তা অবহেলার বিষয় নয়। শক্তিশালী ও পেশাদার প্রতিরক্ষা কাঠামো, আধুনিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত দূরদৃষ্টি— এসব একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মমর্যাদার অংশ। তবে প্রতিরক্ষা শক্তি মানে শুধু সামরিক শক্তি নয়; অর্থনৈতিক স্থিতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্যও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি।সার কথা, মানুষ এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে ন্যায়ভিত্তিক শাসন, উন্নত জীবনমান, শিল্পায়নের গতি এবং সুসংহত প্রতিরক্ষা— সবমিলিয়ে একটি আত্মবিশ্বাসী, স্থিতিশীল ও মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।তাহলে প্রশ্ন এ প্রত্যাশাগুলো পূরণ হবে কিভাবে? এগুলো যে বাস্তবায়নযোগ্য, সেটিইবা কয়জন বিশ্বাস করেন? বাংলাদেশে চার দিকে যে হতাশা আর দুর্নীতির সুনামি, সেখানে এই সমস্যাগুলোর সমাধান আদৌ সম্ভব কি না— এটা এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।আজকের এ প্রবন্ধে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব— কিভাবে প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিতে পারে, আর কেন সেটি কেবল কল্পনা নয়, সম্ভাবনাও বটে।এ বিষয়ে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছুটা পর্যালোচনা জরুরি। কারণ দেশের বর্তমান বাস্তবতা না বুঝে প্রত্যাশার কথা বলা মানে শূন্যে তর্ক করা। প্রেক্ষাপট পরিষ্কার হলে তবেই আমাদের সামনে স্পষ্ট হবে— এ প্রত্যাশাগুলো পূরণের দিকনির্দেশনা কোথায় এবং কোন পথ ধরে এগোলে তা বাস্তব রূপ নিতে পারে।১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও মিত্ররা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন। কিন্তু এ বিজয় বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ মাত্র দেড় বছর আগে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে এ দেশের মানুষ ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করেছেন। সেই আন্দোলন শুধু একটি সরকারের পতন ঘটায়নি; এটি জনমনে এক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা জাগিয়েছে যা পুরনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও জবাবদিহিহীন কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।এ প্রত্যাশার ধারাবাহিকতায় ‘জুলাই সনদ’ নামে একটি সংস্কার প্যাকেজ সামনে আসে এবং গণভোটে ৬৮ শতাংশের বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন লাভ করে। ফলে এটি আর কোনো দলীয় নথি নয়; এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার, একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং একই সাথে একটি লিটমাস টেস্ট, যা সত্যিই নতুন বন্দোবস্ত চায়।আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রশাসনে দ্রুত রদবদল, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও অপসারণের যে ধারা শুরু হয়েছে— তা অনেকের কাছে পরিকল্পিত সংস্কারের অংশ হিসেবে নয়; বরং তাড়াহুড়ো ও দলীয় আনুগত্যনির্ভর পদক্ষেপ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। একটি নির্বাচিত সরকার তার নিজস্ব কর্মদল গঠন করতে পারে— এটি স্বাভাবিক। কিন্তু রাষ্ট্রের সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা, সর্বজন গ্রহণযোগ্যতা এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নটি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ছিল, বিশেষত যখন জনগণ নতুন বন্দোবস্তের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে।এখানে বিষয়টি আরো গভীর। যদি জুলাই সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়িত হয়, তবে পুরনো বন্দোবস্তের প্রধান ধারক-বাহক হিসেবে চিহ্নিত পলাতক আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সাথে, শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির চর্চায় অভ্যস্ত বিএনপির ভেতরের একটি অংশের রাজনৈতিক হিসাবও এতে অস্বস্তির মুখে পড়তে পারে। অর্থাৎ, এ সনদ কেবল একটি সংস্কার নথি নয়, এটি ক্ষমতার কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা।সামাজিক মিডিয়াতে ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এখন আসল প্রশ্ন, সরকার কি এই সমালোচনাকে বিরোধিতা হিসেবে দেখবে, নাকি এটিকে আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ হিসেবে নেবে?জুলাই-আগস্টের রক্ত ও ত্যাগ মানুষের মনে যে প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে, তা কেবল নির্বাচন জয়ের মাধ্যমে পূরণ হয় না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা সাংবিধানিক বৈধতা দেয়; কিন্তু তা জন-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করার লাইসেন্স নয়। নতুন বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি যদি সংখ্যার জোরে অবজ্ঞা করা হয়, তবে সেটি হবে এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ইতিহাসের এ সন্ধিক্ষণে প্রশ্নটি স্পষ্ট, আমরা কি সত্যি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি, নাকি কেবল চরিত্র বদলেছে, কাঠামো নয়? সময় তার উত্তর দেবে।আজ জাতির সামনে একটি বিষয় ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে— জুলাই সনদের গণভোটে যারা ‘না’ ভোট দিয়েছিল, তারা নিশ্চুপ বসে থাকবে না। রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, যারা নতুন বন্দোবস্তের বিপক্ষে ছিলেন, তারা অবশ্যই পুরনো কাঠামোর পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ খুঁজবে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, বিএনপির ভেতরের একটি মহল সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক প্রলোভন কিংবা নির্বাচনী বিজয়ের সঝোতার প্রতিদানে পুরনো বন্দোবস্তের পথ সুগম করতে চাচ্ছে। যদি তারা এতে সফল হয়, তবে দেশ আবারো গভীর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয়ের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এই প্রক্রিয়া সরাসরি ‘পুরনো বন্দোবস্ত চাই’ বলে শুরু হবে না; বরং শুরু হবে রাজনৈতিক নেরেটিভ পরিবর্তনের মাধ্যমে। প্রথম ধাপে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের যাবতীয় কাজ ও সিদ্ধান্ত ভুল, অদক্ষ, অবৈধ কিংবা ব্যর্থ হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে। এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করা হবে, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে যা কিছু হয়েছে, তা ছিল অপরিণামদর্শী, পরিকল্পনাহীন এবং জাতির জন্য ক্ষতিকর।এর পরের ধাপ আরো সূক্ষ্ম। রাজনৈতিক নেরেটিভকে নেগেটিভ করে সেটিকে ধারাবাহিক প্রপাগান্ডার মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা। অর্থাৎ, বারবার পুনরাবৃত্তি, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া, যতক্ষণ না একটি মতামত ধীরে ধীরে ‘স্বাভাবিক সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, বিপ্লবের সব অর্জন অবমূল্যায়ন করা এবং জনতার রায়কে বিভ্রান্তি হিসেবে তুলে ধরা— এ ধরনের কৌশল রাজনীতিতে নতুন নয়।এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আক্রমণও দেখা দিতে পারে। ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তাদের সিদ্ধান্তকে ষড়যন্ত্র হিসেবে চিত্রিত করা— এসব বৃহত্তর নেরেটিভ যুদ্ধের অংশ হতে পারে। লক্ষ্য একটাই— প্রমাণ করা যে, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী জাতীয় সিদ্ধান্তগুলো ভুল ছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কৌশল।কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়ে যায়— একটি গণ-অভ্যুত্থান কি কয়েকজন ব্যক্তির পরিকল্পনায় ঘটে? ৬৮ শতাংশ মানুষ কি কেবল প্রচারণার প্রভাবে ভোট দেন? নাকি এর পেছনে ছিল দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের বাস্তব আকাঙ্ক্ষা?রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে— এটি স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আর ইতিহাস বিকৃত করার প্রচেষ্টা এক নয়। ন্যারেটিভ বদলে দিয়ে, ন্যারেটিভ তৈরি করে সেটি প্রপাগান্ডায় জনপ্রিয় করার চেষ্টা সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা জাতির রাজনৈতিক চেতনা বিভ্রান্ত করবে।তাই প্রবন্ধের শুরুতে যে প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে— নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠাতা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর প্রয়োগ। এ প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখতে হলে একটি শক্তিশালী সামাজিক মোমেন্টাম গড়ে তুলতে হবে, যা বাহ্যিকভাবে আধুনিক ও অন্তরে মূল্যবোধসম্পন্ন; আত্মবিশ্বাসী, কৌশলী এবং নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণে নির্মিত।জুলাই বিপ্লবের যে তরুণসমাজ ঐক্যের শক্তি দেখিয়েছিল, তাদের সেই ঐক্য আরো সুদৃঢ় করা এখন সময়ের দাবি। কোনো একক রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে এ ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বিশেষ করে যদি কোনো দল তার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রক্ষণশীল অবস্থানে স্থির থাকে, বিশেষত নারীর অংশগ্রহণ ও সম-অধিকারের প্রশ্নে, তবে তা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। সেই সাথে দেশ-বিদেশে অস্বস্তি ও আপত্তির জন্ম দিতে পারে।শেষ কথা একটাই— যদি তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে না আসে, যদি তারা নিজেদের ঐক্য ও দায়িত্ববোধ নতুন করে সুসংহত না করে, তবে জুলাইয়ের যে স্বপ্ন জাতির মনে জন্ম নিয়েছিল, তা হয়তো অপূর্ণ থেকে যাবে। ইতিহাস সুযোগ দেয়; কিন্তু সে সুযোগ ধরে রাখতে হলে সাহস, প্রজ্ঞা এবং বিস্তৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন। লেখক : কানাডা প্রবাসী রাজনৈতিক বিশ্লেষক


Share this story

Read Original at dailynayadiganta.com

Related Articles

dailynayadiganta.comabout 6 hours ago
সহিংসতা , বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করুন

Published: 20260301T161500Z

dailynayadiganta.comabout 6 hours ago
মধ্যপ্রাচ্যে অনতিবিলম্বে যুদ্ধ বিরতির আহ্বান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

Published: 20260301T161500Z

dailynayadiganta.com2 days ago
জামায়াতে ইসলামীকে ৫০টির বেশি আসনে হারিয়ে দেয়া হয়েছে

Published: 20260227T191500Z

South China Morning Post29 minutes ago
Top China shipbuilding voice Li Yanqing on why the US industry can’t be rebuilt overnight

Li Yanqing, executive vice-president and secretary general of the China Association of the National Shipbuilding Industry (Cansi), discusses the impact of US trade policies, global market cycles and China’s strategic pivot towards high-quality manufacturing. As a shipbuilding veteran who also serves as chairman of the ISO/TC 8 ships and marine technology committee, which oversees international standardisation for shipbuilding and marine operations, Li is a prominent voice for China’s industry on...

Engadget33 minutes ago
Best Buy Canada seemingly just leaked Sonos' next portable speaker

A product briefly posted on the Canadian Best Buy website this weekend suggests Sonos may soon announce a new portable speaker called the Sonos Play. The speaker offers Wi-Fi and Bluetooth connectivity, AirPlay 2 support, Trueplay to tune the sound based on wherever you've placed it and voice controls, according to a page that's since been removed. Best Buy Canada had it listed for $399.99 CAD (or a little under 300 US dollars), and put the release date at March 31. The listing may have been taken down, but not before it was spotted and reposted on Reddit. The product page for the Sonos Play also showed that it comes in two colors, White and Black, and it has a little carrying strap for added convenience. It's IP67 rated dust- and waterproof. Sonos hasn't officially made any announcements about it yet, but we wouldn't be surprised to see one soon. This article originally appeared on Engadget at https://www.engadget.com/audio/speakers/best-buy-canada-seemingly-just-leaked-sonos-next-portable-speaker-215601978.html?src=rss

South China Morning Post35 minutes ago
Supporters of ex-president Bolsonaro rally across Brazil against Lula

Thousands of supporters of Brazil’s former president Jair Bolsonaro demonstrated in cities across the South American nation on Sunday, as organisers hoped to build momentum for a right-wing victory in the coming presidential elections. Protesters draped in yellow and green – the colours of the national flag – took to the streets in Sao Paulo, Rio de Janeiro and the capital Brasilia to voice their opposition to current President Luiz Inacio Lula da Silva who faces a tough re-election bid in...