dailyjanakantha.com · Mar 1, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260301T133000Z
অভিনন্দন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ১ মার্চ ২০২৬ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি জাতির স্বাধীনতা এবং আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার চেতনা বাংলাদেশের ভিত্তি। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে (২০২৪-২৫) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্মৃতিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান-অপদস্ত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে এবং ইতিহাস বিকৃত করার প্রয়াস চলেছে। এই কঠিন সময়ে যখন অনেকেই নীরব থেকেছেন তখন বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান একাই সবার আগে দৃঢ়কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নির্বাচনের সময়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের তাকে ভোট দিতে বারণ করেছেন। তিনি তার নীতিতে ছিলেন অটল। তার এই সাহসী ভূমিকা জাতির কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বিপুল বিজয় জনগণের সেই স্বীকৃতি। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার অল্প কয়েকদিনের মাথায়ই ফজলুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। যখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তি মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছিল এবং তারা মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছিল তখন তিনি টকশো এবং সাক্ষাৎকারে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে এবং সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। তার কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা এবং তার চোখে ছিল একাত্তরের চেতনা। যখন অনেক রাজনীতিবিদ এবং বুদ্ধিজীবী নীরব ছিলেন বা সুবিধাবাদী অবস্থান নিয়েছিলেন, তখন ফজলুর রহমান একাই লড়াই করেছেন। তার এই সাহসী ভূমিকা প্রমাণ করে যে, মুক্তিযোদ্ধারা শুধু ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেননি বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় তারা আজও সংগ্রামরত। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের বিরুদ্ধে ফজলুর রহমান ছিলেন সোচ্চার। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাসভবন যখন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় তখন তিনি এর তীব্র নিন্দা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভ এবং ভাস্কর্য ভাঙচুরের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জাতীয় সংগীত বিলুপ্ত করার যে চেষ্টা হয়েছিল তার বিরুদ্ধেও তিনি দাঁড়িয়েছেন। বাংলার সহজিয়া মানুষদের আশ্রয়স্থল মাজারগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো বর্বরতার বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার প্রতিটি বক্তব্যে ছিল স্পষ্টতা এবং নির্ভীকতা। তিনি জানতেন যে, এই অবস্থান নেওয়ার জন্য তাকে মূল্য দিতে হতে পারে। কিন্তু তিনি পিছপা হননি। এটিই একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়। জাতির স্র্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সহজ নয়। যখন পুরো দেশ একটি নির্দিষ্ট দিকে ধাবিত হচ্ছে তখন একা দাঁড়িয়ে ভিন্ন কথা বলা অসাধারণ সাহসের পরিচয়। ফজলুর রহমান সেই সাহস দেখিয়েছেন। তিনি বুক টান টান করে দাঁড়িয়েছেন এবং সত্য কথা বলেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি শক্তিশালী হচ্ছিল এবং তারা ক্ষমতায় যাওয়ার নক্সা তৈরি করছিল, তখন অনেকে ভয়ে বা স্বার্থের কারণে ছিলেন নীরব। কিন্তু ফজলুর রহমান তার বিবেকের আওয়াজ শুনেছেন এবং জাতির স্বার্থে কথা বলেছেন। তার মাঝে জাতি একজন অকুতোভয় বীরকে দেখেছে। বাংলার একজন ভূমিপুত্রকে দেখেছে যিনি নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখেন। তার ভেতর দিয়ে জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের চেতনা দেখেছে। ফজলুর রহমানের এই সাহসী অবস্থানের জন্য তাকে মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি লাঞ্ছিত হয়েছেন এবং নানাভাবে ভর্ৎসনা পেয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তাকে মুক্তিযুদ্ধের নামে রাজনীতি করার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি দমে যাননি। তিনি তার অবস্থানে অটল থেকেছেন এবং সত্য কথা বলেছেন। তার এই অবিচল মনোভাব প্রমাণ করে যে, তিনি স্বার্থের জন্য নয় বরং বিশ্বাসের জন্য লড়াই করছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি জানেন যে মুক্তিযুদ্ধ শুধু ১৯৭১ সালে শেষ হয়নি বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার লড়াই প্রতিদিন চালিয়ে যেতে হয়। তার এই দৃঢ়তা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা এবং শিক্ষা। নিজের বিশ্বাসের জন্য দাঁড়ানো এবং কঠিন সময়ে সত্য কথা বলার শিক্ষা তিনি দিয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফজলুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এই বিজয় শুধু একজন ব্যক্তির বিজয় নয়, বরং এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিজয়। যে মানুষ নির্ভীকভাবে সত্য কথা বলেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তাকে জনগণ পুরস্কৃত করেছেন। তার আসনের মানুষ প্রমাণ করেছেন যে, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় উগ্রতা প্রত্যাখ্যান করেন। ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার রয়েছে তাদের। ফজলুর রহমানের বিজয়ের মধ্য দিয়ে তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এই নির্বাচনী ফল একটি বার্তা পাঠায় যে, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী এবং যারা নীতির জন্য লড়াই করেন জনগণ তাদের সমর্থন করেন। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে জনগণ একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সাহস করে সবাই মুখ ফুটে কথা বলতে এবং মেরুদণ্ড সোজা করে সবাই দাঁড়াতে না পারলেও জনগণ সেই সাহসীদের সঙ্গে আছেন এবং থাকবেন। জাতির যে কোনো প্রয়োজনে যারা দুর্দিনে জাতির মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা রাখেন জনগণ তাদের মূল্যায়ন করেন। এটাই জাতির প্রকৃত অবস্থান এবং এই অবস্থান ভূমিকা পালনকারী সাহসীদের জন্য প্রেরণা। ফজলুর রহমানের বিজয় প্রমাণ করে যে, সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ালে জনগণের সমর্থন পাওয়া যায়। যারা ভয়ে বা স্বার্থে নীরব থাকেন তারা হয়ত সাময়িক সুবিধা পান, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা হারান। ফজলুর রহমান জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন তার সততা এবং সাহসিকতার মাধ্যমে। ফজলুর রহমানের সংগ্রাম এবং বিজয় তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি উদাহরণ। আজকের তরুণরা যারা দেশের ভবিষ্যৎ তাদের শিখতে হবে কীভাবে নীতির জন্য দাঁড়াতে হয় এবং কীভাবে সত্যের পক্ষে কথা বলতে হয়। অনেক সময় সত্য কথা বলা কঠিন হয় এবং এর জন্য মূল্য দিতে হয়। কিন্তু যারা সাহস করে দাঁড়ান তারাই ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ফজলুর রহমান দেখিয়েছেন যে, একজন মানুষ যদি দৃঢ় বিশ্বাস এবং সাহস নিয়ে এগিয়ে যান তাহলে জনগণ তার পাশে দাঁড়ায়। তরুণ প্রজন্মকে বুঝতে হবে যে, মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ইতিহাসের ঘটনা নয় বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করা এবং সেই চেতনা অনুযায়ী দেশ গড়া প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। ফজলুর রহমান সেই দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তরুণদের জন্য পথ দেখিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষা করা জাতির দায়িত্ব। যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন এবং তাদের জীবন বাজি রেখেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। কিন্তু বিগত সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপদস্ত করা হয়েছে এবং তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, শহীদের সংখ্যা, বীরঙ্গনাদের আত্মত্যাগ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার নামে তাদের হয়রানি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা হয়েছে- ৭ মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ইত্যাদি ঐতিহাসিক বিষয়গুলোতে বিভ্রান্তির অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফজলুর রহমানের মতো মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সম্মান রক্ষার জন্য লড়াই করেছেন। তারা শুধু নিজেদের সম্মান রক্ষা করেননি বরং সকল মুক্তিযোদ্ধার সম্মান রক্ষা করেছেন। ফজলুর রহমানের বিজয় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান পুনর্প্রতিষ্ঠার একটি পদক্ষেপ। জনগণ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করেন এবং তাদের অবদান স্বীকার করেন। মুক্তিযুদ্ধ এখনো সমভাবে প্রাসঙ্গিক- এটাই তার প্রমাণ। সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মীয় উগ্রতার বিরুদ্ধে ফজলুর রহমানের লড়াই প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বিগত সময়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এবং তারা ধর্মের নামে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। মাজার এবং মন্দির ভাঙা হয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফজলুর রহমান সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, বাংলাদেশ সকল ধর্মের মানুষের দেশ এবং এখানে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। তার এই অবস্থান জনগণ সমর্থন করেছেন এবং তাকে বিজয়ী করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করেন এবং সাম্প্রদায়িকতা প্রত্যাখ্যান করেন। গণতন্ত্র এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা একটি সুস্থ সমাজের পূর্বশর্ত। ফজলুর রহমান গণতন্ত্রের অবতার হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। কারণ তিনি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সহনশীল। তিনি বিশ্বাস করেন যে, গণতন্ত্রে প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার আছে এবং সেই অধিকার রক্ষা করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যখন ভিন্নমত দমন করা হচ্ছিল এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছিল তখন তিনি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। তার এই অবস্থান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি তার অঙ্গীকার প্রদর্শন করে। জনগণ তার এই গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন করেছেন এবং তাকে নির্বাচিত করেছেন। ফজলুর রহমানের বিজয় গণতন্ত্রের বিজয় এবং এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন। ফজলুর রহমানের সাহসী ভূমিকা এবং বিপুল বিজয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ালে জনগণের সমর্থন পাওয়া যায়। তার লড়াই শুধু ব্যক্তিগত নয় বরং এটি ছিল জাতির লড়াই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা, সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার সংগ্রাম জাতির সংগ্রাম। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা এই লড়াইয়ে তার পাশে আছেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে জাতির পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ সেলাম। তার সাহস এবং ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, একজন মানুষ যদি বিশ্বাস এবং সাহস নিয়ে দাঁড়ান তাহলে কোনো অন্ধকারই তাকে থামাতে পারে না। তার জয় মুক্তিযুদ্ধের জয়, গণতন্ত্রের জয় এবং বাংলাদেশের জয়। লেখক : অধ্যাপক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্যানেল/মো.