dailyjanakantha.com · Mar 1, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260301T041500Z
সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ কেবিনেট বৈঠকে নয়, বরং বাইরে থেকে নেওয়া হতো। তিনি বলেন, যারা ভিন্নমত পোষণ করতেন, তাদের মতামত সাধারণত ছোটখাটো বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকত। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা যারা দ্বিমত করেছি, সেগুলো মূলত সূচি বাদ দেওয়ার মতো ছোটখাটো বিষয়। দুর্ভাগ্যবশত, বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে আলোচিত হতো না। এগুলো অন্য কোনো স্থানে আলোচনা হতো।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সব সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে। তবে সেখানে কারা ছিলেন, তা তিনি নিশ্চিত নন। “আমি সেখানে ছিলাম না, এবং হয়তো ওই মনোভাবের লোকের মধ্যে আমি নেই বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল,” বলেন তিনি। পুলিশ পুনর্গঠন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাখাওয়াত হোসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, পুলিশ পুনর্গঠন ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সে সময় পুলিশ মাঠে নামার জন্য অনিচ্ছুক ছিল, অনেক থানা লুট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছিল। পুলিশের কিছু দাবির বিষয়ে আলোচনার পর বোঝাপড়ার মাধ্যমে তারা মাঠে নামতে শুরু করে। তিনি জানান, ট্রাফিক পুলিশকেও উৎসাহিত করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তখন প্রায় চার হাজার রাইফেল লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এক হাজারের বেশি এখনও নিখোঁজ। এই অস্ত্রগুলো বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দায়িত্ব ছাড়ার কারণ নিজের দায়িত্ব ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি কিছু বক্তব্য দিয়েছিলাম যা তখনকার প্রেক্ষাপটে সঠিক মনে হয়নি। পরে দেখা গেল পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি জটিল।” তিনি জানালেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে দায়িত্বে থাকতে বলেছেন, কারণ তাৎক্ষণিকভাবে গেলে খারাপ বার্তা যাবে। ৭.৬২ বুলেট ও অস্ত্র বিতর্ক সাবেক উপদেষ্টা বলেন, চাইনিজ টাইপ-৩৯ রাইফেল ও ৭.৬২ বুলেট সম্পর্কিত বিষয় এখনও সমাধান হয়নি। “আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ভিডিওতে দেখা গেছে, কেউ কেউ পুলিশের রাইফেল ব্যবহার করছে। এটি মারাত্মক অস্ত্র, যা সাধারণ পুলিশের জন্য থাকা উচিত নয়। কবে ও কেন এসব অস্ত্র পুলিশের কাছে দেওয়া হলো, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন,” বলেন তিনি। নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না। আমাদের দেশে টানা তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তবে এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৭৭টি আসন পেয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।” চুক্তি, বিনিয়োগ ও বিদেশি প্রভাব সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো গোপন চুক্তি হয়নি। এসব চুক্তি সাধারণত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পিপিপি অথরিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কিছু চুক্তিতে ‘নন-ডিসক্লোজার ক্লজ’ থাকে, যা প্রকাশ করা যায় না। বিদেশি প্রভাব বিষয়ে তিনি জানান, সব ক্ষেত্রে না হলেও কিছু বিষয়ে চাপ ছিল। বিশেষ করে বাণিজ্য আলোচনায় চাপ বেশি ছিল এবং আগের সময়ে নীতিনির্ধারণ অনেকটাই দিল্লিকেন্দ্রিক ছিল। রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পেছনেও এই প্রভাব স্পষ্ট ছিল।