dailyjanakantha.com · Feb 27, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260227T184500Z
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। যদি তাই হয় তাহলে কয়েক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হস্তক্ষেপ হতে পারে। ইরানের সঙ্গে যদি যুদ্ধ বেঁধে যায় তাহলে বাহরাইনে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে হামলা চালাতে পারে তেহরান, এমন আশঙ্কা থেকে নিজেদের সব জাহাজ সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার আগেও বাহরাইন থেকে নিজেদের জাহাজ সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। নতুন স্যাটেলাইট ছবির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এপি। অন্যদিকে ইসরাইলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় এ নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। খবর সিএনএন, বিবিসি ও আলজাজিরার। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি দাবি করেন, আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতাকারীরাও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় অগ্রগতি দাবি করা হলেও ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মৌলিক বিরোধে দুই পক্ষ কাছাকাছি এসেছে- এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জেনেভায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন পক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সংক্ষিপ্ত সময়কাল পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এক পর্যায়ে সুইজারল্যান্ডের শহরে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উইটকফকে বৈঠক ছেড়ে যেতে হয়, যা তেহরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে বলে জানা গেছে। এদিকে ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রতিবেদনটিতে বলা হয় তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনায় ভাঙনের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, অভূতপূর্ব উন্মুক্ততার সঙ্গে নতুন ও সৃজনশীল প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম না সমৃদ্ধকরণে কঠোর নিশ্চয়তা দিক এবং এমন পরিদর্শন ব্যবস্থায় সম্মত হোক। যাতে ওয়াশিংটন নিশ্চিত হতে পারে যে তেহরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য অস্বীকার করে আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি বড় বাধা। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন দাবির অসঙ্গতি নিয়ে অভিযোগ তোলেন। আলোচনার মধ্যেই ইরানি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন সামরিক শক্তি জড়ো করেছে। সেখানে দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি ভরার সরঞ্জাম এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিন মোতায়েন রয়েছে। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চূড়ান্ত আলোচনা ভেস্তে গেলে যুদ্ধই হতে পারে শেষ পরিণতি। ইসরাইলি সেনাবাহিনী মনে করে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন পর্যায়ে আছে যেখান থেকে তাদের ফিরে আসার সুযোগ নেই। অর্থাৎ ইরানে তারা হামলা চালাবে। আর এমন হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে ইসরাইলি ঊর্ধ্বতন সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের অবহিত করা হতে পারে। এদিকে মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়- যতক্ষণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু আছে, ততক্ষণই যেন নাগরিকরা ইসরাইল ত্যাগ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনা এবং এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটেই এই আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই এই অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড শুক্রবার ইসরাইলের উত্তর উপকূলে মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন মিশনের তথ্যমতে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে ইসরাইলে থাকা তাদের অ-জরুরি সরকারি কর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের দেশ ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে, কোনো প্রকার আগাম ঘোষণা ছাড়াই ইসরাইলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা, বিশেষ করে জেরুজালেমের ওল্ড সিটি এবং ওয়েস্ট ব্যাংকে মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। সন্ত্রাসবাদ এবং নাগরিক অস্থিরতার আশঙ্কায় মার্কিন নাগরিকদের ইসরাইল ও ওয়েস্ট ব্যাংক ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে গাজা সীমান্ত থেকে সাত মাইলের মধ্যে এবং লেবানন ও সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেসব স্থানে ভ্রমণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মিসরের তাবা ক্রসিং বাদে সীমান্ত এলাকাগুলোতেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।