
risingbd.com · Feb 26, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260226T053000Z
পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে হামলা করা হবে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসছেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা। খবর আল-জাজিরার। পরমাণু আলোচনার প্রস্তুতি নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় পৌঁছেছেন এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওমান বৃহস্পতিবারের এই পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে। রওনা হওয়ার আগে আরাঘচি বলেন, একটি ‘ন্যায়সংগত, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সমতাভিত্তিক চুক্তি’ সম্ভব। তবে তিনি আবারো জোর দিয়ে জানান, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চাইছে না এবং ‘পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার’ ছেড়ে দিতেও তারা প্রস্তুত নয়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একদিনে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও অন্যদিকে কূটনৈতিক সুর- এমন দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই আলোচনাটি শুরু হচ্ছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, গত জুনে ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর ইরান আবারো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, তেহরানের উচিত ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নীতিটি খুব সহজ: ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। তারা যদি তা তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে সেটি আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে...আসলে আমরা এমন প্রমাণ পেয়েছি যে তারা ঠিক সেই চেষ্টাই করেছে। প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) বারবার বলেছেন, তিনি কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান চান, তবে অবশ্যই প্রেসিডেন্টের হাতে অন্যান্য বিকল্পও খোলা আছে।” বুধবার এমন হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ৩০টিরও বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এগুলো ইরানের তেল বিক্রি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অস্ত্র উৎপাদনে অর্থায়ন করতে সহায়তা করেছে। এর একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জোরালো ইঙ্গিত দেন। তিনি ইরানকে ‘ভয়ঙ্কর পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ এবং যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির দায়ে অভিযুক্ত করেন- যা ইরানি কর্মকর্তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেন, পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ওয়াশিংটন যা বলছে তা কেবল ‘বড় ধরনের মিথ্যাচার’। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, জেনেভা আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তেহরান একে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনার টেবিলের বাইরে রাখার ইরানি জেদকে তিনি একটি ‘বিশাল সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই আলোচনার নেতৃত্বে আছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জারেড কুশনার। এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে প্রথম দফা এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, আলোচনার মূল নীতিগুলো নিয়ে দুই পক্ষ একটি প্রাথমিক বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। আল-জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদির মতে, মূল ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষ এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তার বিষয়ে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা এখনো অস্পষ্ট। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গত বছরের মার্কিন হামলায় এই কর্মসূচি ‘ধ্বংস’ হয়ে গেছে। কিন্তু মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য বলছে, ওয়াশিংটন একে এখনো বড় হুমকি মনে করে। এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখনো ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি পায়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে। ইরানের কাছে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরার্ল্ড আর ফোর্ডসহ কয়েক হাজার অতিরিক্ত সৈন্য এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান (জেড-৩৫, এফ-২২) মোতায়েন করা হয়েছে। ইরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যেকোনো মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে। এমনকি তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে, যা বিশ্ব তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আপনারা কূটনীতির পথ বেছে নেন যেখানে ইরানি জাতির মর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থ বজায় থাকে, তাহলে আমরাও সেখানে থাকব। কিন্তু যদি প্রতারণা ও মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচনার মাঝপথে হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে নিঃসন্দেহে ইরানি জাতির কঠিন আঘাতের স্বাদ আপনাদের নিতে হবে।”