
bd-pratidin.com · Feb 16, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260216T181500Z
প্রকাশ: ২৩:৪০, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রিন্ট ইরানের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ভয়ংকর যুদ্ধ? অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ভার্সন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর সামরিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। বর্তমানে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই অবস্থান করছে শক্তিশালী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এই সুপারক্যারিয়ারটি মোতায়েনের মাধ্যমে ওই এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তি দ্বিগুণ হতে চলেছে। এর আগে গত বছরের জুন মাসে মোতায়েন হওয়া ফোর্ড গত অক্টোবর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ারের অংশ হিসেবে কাজ করছিল, যেখান থেকে এখন একে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই দ্বৈত রণতরি মোতায়েনকে ইরানের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন থাকায় মার্কিন বাহিনী এখন অনেক বড় পরিসরে এবং সমন্বিতভাবে ইরানের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনী এমন পরিস্থিতিতে 'ডুয়াল ক্যারিয়ার অপারেশন' পরিচালনা করে, যেখানে দুটি রণতরি থেকে একসাথে শত শত যুদ্ধবিমান উড়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। এর ফলে আকাশপথে হামলার তীব্রতা যেমন বাড়বে, তেমনি ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ চালিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দিশেহারা করে দেওয়া সম্ভব হবে। এই সামরিক সজ্জায় কেবল বিমানবাহী রণতরীই থাকছে না, বরং এর চারপাশে মোতায়েন থাকছে টমাহক ক্রুজ মিসাইল সজ্জিত শক্তিশালী ক্রুজার এবং ডেস্ট্রয়ার জাহাজ। বিশেষ করে আর্লে বার্ক-ক্লাসের ডেস্ট্রয়ারগুলো থেকে প্রায় ৯০০ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা সম্ভব। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে আমেরিকা সম্ভবত কোনো দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধ বা আকাশ অভিযানের পরিবর্তে অত্যন্ত দ্রুত এবং সুনির্দিষ্ট হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। একে সামরিক ভাষায় 'ডেকাপিিটেশন স্ট্রাইক' বলা হয়, যার মূল লক্ষ্য থাকে প্রতিপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কমান্ড সেন্টারগুলোকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিয়ে পুরো শাসন ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া। প্রযুক্তিগত দিক থেকে মার্কিন এই বহরে থাকা টমাহক মিসাইলগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষ করে ব্লক-ফোর এবং ট্যাকটিক্যাল টমাহকগুলো মাঝ আকাশে থাকাকালীন গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে এবং চলন্ত লক্ষ্যবস্তুকে খুঁজে বের করে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে ইরানের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মোবাইল লঞ্চার বা চলন্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সহজ হবে। এছাড়া এই অভিযানে টমাহক মিসাইলের প্রাথমিক আঘাতের পরপরই এফ-৩৫ সি এবং এফ-১৮ যুদ্ধবিমানগুলো আকাশপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যবহার করা হবে, যা ইরানের অবশিষ্ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে পারবে। পুরো এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের কেন্দ্রীয় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যাতে তাদের সেনাবাহিনী কোনো সুসংগঠিত পদক্ষেপ নিতে না পারে। এর ফলে সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতা বা বিশৃঙ্খলাকে কাজে লাগিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকারীদের জন্য পথ প্রশস্ত করা বা নতুন কোনো নেতৃত্ব তৈরি করাই আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হতে পারে। ২০২৫ সালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও এবার মার্কিন সুপারক্যারিয়ারের এই দ্বৈত উপস্থিতি দেশটিকে এক নজিরবিহীন সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিডি প্রতিদিন/নাজমুল এই বিভাগের আরও খবর রণতরী না ডুবিয়েও যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে পারে চীন গাজায় এপ্রিলেই এক হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া? ৬০ কোটির সাম্রাজ্য থেকে নিঃসঙ্গ মৃত্যু: এক চিকিৎসকের করুণ পরিণতি নিঃসন্তান চিকিৎসকের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, বিশাল সম্পত্তি নিয়ে টানাটানি মাদুরোকে ধরতেই আমেরিকার তিন বিলিয়ন ডলার শেষ! মার্কিন হামলা হলে ইরানকে সহায়তার ঘোষণা আফগানিস্তানের ২০ মিনিটেই আমেরিকায় পৌঁছাবে চীনের ভয়ংকর মিসাইল? ইরানের সামরিক পুনরুত্থান, মার্কিন-ইসরায়েল কৌশল পুরোপুরি ব্যর্থ? ইরানের ভয়ংকর ফাঁদে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র? প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে জার্মানি-ফ্রান্স অসন্তোষ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়া শুরু নাভালনিকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ, যা বলল রাশিয়া সর্বশেষ খবর সর্বাধিক পঠিত প্রিন্ট সর্বাধিক