
bd-pratidin.com · Feb 16, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260216T151500Z
প্রকাশ: ১৯:৫০, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রিন্ট ইরানের সামরিক পুনরুত্থান, মার্কিন-ইসরায়েল কৌশল পুরোপুরি ব্যর্থ? অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ভার্সন ২০২৫ সালের ভয়াবহ বিমান হামলার ক্ষত কাটিয়ে ইরান বর্তমানে তাদের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সামরিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে তেহরানের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল তা বর্তমানে অনেকটাই অসার প্রমাণিত হতে শুরু করেছে। হোয়াইট হাউস সে সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। যেখানে তেহরান এখন আরও শক্তিশালী ও সুরক্ষিত অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশল ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ইরানের মাটির গভীরে সামরিক স্থাপনা তৈরির বিশেষ দক্ষতা। ২০২৫ সালে অপারেশন রাইজিং লায়নের আওতায় ইসরায়েল নাতাঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী হামলা চালালেও ইরান এখন তাদের অধিকাংশ গোপন ল্যাবরেটরি এবং পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে ভূগর্ভের এমন গভীরে নিয়ে গেছে যেখানে সাধারণ বোমার পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। এই ভূগর্ভস্থ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে পশ্চিমা শক্তির পক্ষে ইরানের পারমাণবিক অগ্রযাত্রাকে স্থায়ীভাবে থামিয়ে দেওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। ইরানের সামরিক শক্তির আরেকটি অন্যতম স্তম্ভ হলো তাদের বিশাল মিসাইল ভাণ্ডার, যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বৃহত্তম হিসেবে স্বীকৃত। তেহরান বর্তমানে মাটির প্রায় ৫০০ মিটার গভীরে তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মজুত করার জন্য বিশাল ‘মিসাইল সিটি’ গড়ে তুলেছে। এই গভীরতা এতটাই বেশি যে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত অত্যাধুনিক বাংকার-বাস্টিং জিবিইউ-৫৭ বোমাগুলোও সেখানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই সুরক্ষিত ব্যবস্থা ইরানকে একটি পাল্টা আক্রমণের শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে যা ইসরায়েল এমনকি ইউরোপের অনেক অংশের জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী ২০২৫ সালের হামলায় ইরানের সক্ষমতা কয়েক দশক পিছিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালের নতুন স্যাটেলাইট চিত্রগুলো ইরানের অবিশ্বাস্য পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রমাণ দিচ্ছে। ইরান কেবল তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতই করছে না বরং আগের চেয়ে আরও উন্নত ও শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেগুলোকে সুরক্ষিত করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের মতো একটি দেশকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় বরং এটি তাদের আরও জেদি করে তুলছে। তারা এখন অনেক বেশি সতর্কতার সাথে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলো মাটির নিচে সরিয়ে নিচ্ছে। বর্তমান এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটা স্পষ্ট যে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়ে তাদের দীর্ঘমেয়াদীভাবে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনাটি সফল হয়নি। বরং এই আক্রমণগুলোর প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখন তাদের সামরিক সক্ষমতাকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করেছে এবং মাটির নিচে এমন এক সুরক্ষিত বিশ্ব তৈরি করেছে যা যেকোনো আধুনিক বিমান হামলার ধরাছোঁয়ার বাইরে। আন্তর্জাতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে যে শুধুমাত্র শক্তির প্রয়োগ কি তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান নাকি পশ্চিমা বিশ্বকে এখন ইরানের এই ভূগর্ভস্থ সক্ষমতা মেনে নিয়ে নতুন কোনো কূটনৈতিক পথে হাঁটতে হবে। বিডি প্রতিদিন/নাজমুল এই বিভাগের আরও খবর গাজায় এপ্রিলেই এক হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া? ৬০ কোটির সাম্রাজ্য থেকে নিঃসঙ্গ মৃত্যু: এক চিকিৎসকের করুণ পরিণতি নিঃসন্তান চিকিৎসকের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, বিশাল সম্পত্তি নিয়ে টানাটানি মাদুরোকে ধরতেই আমেরিকার তিন বিলিয়ন ডলার শেষ! মার্কিন হামলা হলে ইরানকে সহায়তার ঘোষণা আফগানিস্তানের ২০ মিনিটেই আমেরিকায় পৌঁছাবে চীনের ভয়ংকর মিসাইল? ইরানের ভয়ংকর ফাঁদে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র? প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে জার্মানি-ফ্রান্স অসন্তোষ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়া শুরু নাভালনিকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ, যা বলল রাশিয়া পাকিস্তানে থানার কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণ, বহু হতাহত ভারতে মাছধরা ট্রলারসহ ২৮ বাংলাদেশি জেলে গ্রেফতার সর্বশেষ খবর সর্বাধিক পঠিত প্রিন্ট সর্বাধিক