dailyinqilab.com · Feb 26, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260226T180000Z
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতির পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটির ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা এবং নিবন্ধন স্থগিত থাকলেও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক সুযোগ বা ‘স্পেস’ তৈরি করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও দলটির একটি বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী এখনো রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে রয়ে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, সেখানে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। এই শূন্যতাকে কেন্দ্র করেই দলটির জন্য পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার বা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক ভিন্নধর্মী পথ তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ী দল এবং অন্যান্য বিরোধী শক্তির মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হলে আওয়ামী লীগের এই ‘নীরব ভোট ব্যাংক’ যে কোনো পক্ষের জন্য বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। যদিও দলটির শীর্ষ নেতারা বর্তমানে কারাবন্দি অথবা দেশের বাইরে পলাতক, তবুও তৃণমূল পর্যায়ে দলটির সমর্থকরা সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে রাজনৈতিক সংস্কার এবং পরবর্তী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে কতটুকু অন্তর্ভুক্ত করা হবে বা তারা কীভাবে নিজেদের ‘রিফাইন’ বা সংস্কার করে ফিরে আসবে, তার ওপরই নির্ভর করছে দলটির ভবিষ্যৎ। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নির্বাচনে তাদের সমর্থকদের ভোট প্রদানের প্রবণতা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ দলটিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক বিবর্তন নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের এই নতুন অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।