jugantor.com · Feb 19, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260219T103000Z
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে। অ্যাক্সিওস–এর এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযান হবে ‘বৃহৎ ও কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযান’, যা ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মতো নয়।দুই সপ্তাহের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের ‘৯০ শতাংশ’ সম্ভাবনাডোনাল্ড ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা প্রকাশনাটিকে জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছেন। তার আশপাশের কিছু মানুষ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করছেন। তবে আমার মনে হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা কাইনেটিক অ্যাকশন দেখতে পারি।’প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে হতে পারে, যা জুন মাসে ইরানের ওপর চালানো ১২ দিনের হামলার চেয়েও বিস্তৃত হবে এবং ইরানের নেতৃত্বকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এ ধরনের যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাকি মেয়াদকালেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেসের সঙ্গে এ নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা খুব কম হয়েছে।জানুয়ারিতে বিক্ষোভ দমনে প্রাণহানি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রায় সামরিক হামলার অনুমোদন দিতে যাচ্ছিলেন বলে জানা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত হামলা হয়নি, ট্রাম্প প্রশাসন দুইমুখী কৌশল গ্রহণ করে—একদিকে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার, অন্যদিকে পারমাণবিক আলোচনা অব্যাহত রাখা।এই কৌশলের মাধ্যমে কোনো চুক্তি না হলে সম্ভাব্য অভিযানের রূপ কেমন হবে, তার ইঙ্গিত দিতে চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।মঙ্গলবার ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক করেন। উভয় পক্ষই অগ্রগতির কথা বললেও, অ্যাক্সিওস জানায় যে আলোচনায় এখনও বড় ধরনের ‘ফাঁক’ রয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা চুক্তি সফল হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নন।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছু ‘রেড লাইন’ নির্ধারণ করেছেন, যা ইরান মেনে নিতে রাজি নয়।ইরান ঘিরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধিএদিকে, ইরান নতুন প্রস্তাব নিয়ে দুই সপ্তাহ পর আবার আলোচনায় ফিরতে সম্মত হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে তাদের আকাশ ও নৌ সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান—এফ-৩৫, এফ-২২ ও এফ-১৬—পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।জানুয়ারির শেষ দিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ট্রাম্প আরব সাগরে বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln মোতায়েন করেন। পরে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিবিসি জানায়, এক ডজন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং কয়েকটি এ-১০সি থান্ডারবোল্ট II আক্রমণ বিমান জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি ঘাঁটিতে পৌঁছেছে।স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা যায়, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার USS Delbert D Black সুয়েজ খাল পেরিয়ে লোহিত সাগরের দিকে যাচ্ছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন উপসাগরীয় অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া ই-১১এ যোগাযোগ বিমান, পি-৮ পোসেইডন, ই-৩জি সেন্ট্রি নজরদারি বিমানসহ আরও কয়েকটি রিকনাইসান্স বিমান অঞ্চলে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরীও ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে।মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব দিতে হবে। গত জুনেও ট্রাম্প আলোচনা চালিয়ে যাওয়া বা সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে তিন দিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়।ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, তাদের সরকার কয়েক দিনের মধ্যেই সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।সূত্র- এনডিটিভি