
parbattanews.com · Feb 22, 2026 · Collected from GDELT
Published: 20260222T071500Z
সংসদ সচিবালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করে সংসদের অধিবেশন আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আজকালের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি অধিবেশন ডাকতে পারেন বলে জানা গেছে।এদিকে গতকাল শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। আগামী ১২ মার্চ বা এর দুয়েক দিন আগেই হতে পারে প্রথম অধিবেশনের বৈঠক।সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি দিয়ে নতুন স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি বৈঠক বসবে। নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শোক প্রস্তাব পাঠসহ সংসদের বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া এদিনের বৈঠকে বিগত সংসদের পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, তার সব উপস্থাপন করা হবে। আইনমন্ত্রী অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করবেন। প্রথম বৈঠকের পর দ্বিতীয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব তোলা হবে। ওই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেবেন।সংবিধান অনুযায়ী ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে সংবিধানে। এর আগে সংসদের বৈঠকে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পরপরই প্রথম দিনের বৈঠক মুলতবি করা হবে।গতকাল দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সময়সূচি নিয়ে এই সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমবারের মতো গতকাল তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন প্রধানমন্ত্রীর এটি ছিল তৃতীয় কর্মদিবস। এর আগে দুই দিন তিনি সচিবালয়ে অফিস করেন। সেখানে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেন।শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো এবং শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ হয় পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেন ১৭ ফেব্রুয়ারি।এই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল বিএনপি ইতোমধ্যেই দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচন করেছে। তাঁর নেতৃত্বে নতুন সরকার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তবে বিএনপি এখনও স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ পদে কাকে মনোনীত করবে– তা প্রকাশ করেনি।অন্যদিকে ৬৮ আসন পাওয়া বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী তাদের সংসদীয় দলের সভায় দলটির আমির শফিকুর রহমানকে নেতা নির্বাচিত করেছেন। বিরোধীদলীয় উপনেতা হয়েছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হয়েছেন জামায়াতের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে গৃহীত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী, এবার বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার হওয়ার কথা। বিএনপির নির্বাচনী ইশেতেহারেও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।অধিবেশন শুরু কার সভাপতিত্বে তা স্পষ্ট নয় আইন অনুযায়ী, বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু এবং নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কথা। কিন্তু এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ইতোমধ্যেই স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নতুন এমপিদের শপথ পাঠ করিয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিদায়ী সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। এর আগে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন।এবার অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারবেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনায় জ্যেষ্ঠ একজন সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। এবারও তেমন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অধিবেশন কার সভাপতিত্বে শুরু হবে– এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা এখনও বলতে পারছি না। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত। তারা অনুপস্থিত থাকলে সে ক্ষেত্রে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি, সংবিধান ও রেওয়াজ অনুসরণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও নবনির্বাচিত বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রথম দিনে একজন সিনিয়র সদস্য সভাপতিত্ব করার নজির রয়েছে। এবারের অধিবেশনেও এমনটিই হবে। তবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে সরকারি দল। সরকারি দল উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে তারা পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করবেন।সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। এর আগে ভাষণটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়। প্রথম অধিবেশনজুড়ে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করেন।১২ ফেব্রুয়ারি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল এখনও ঘোষণা হয়নি। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। বাকি ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯ এবং তাদের মিত্ররা তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুই এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।অধিবেশন প্রাণবন্ত করতে আগ্রহী দুই পক্ষ সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জনগণের সঙ্গেই তারা থাকবেন। জনগণ ও দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে সজাগ দৃষ্টি রেখেই দায়িত্ব পালন করবেন তারা।রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দুনিয়ার সভ্য দেশগুলো যেভাবে দায়িত্ব পালন করে, সেই সংস্কৃতিটা সংসদে দেখাতে চাই।সংসদকে প্রাণবন্ত করতে বিরোধী দলের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে। সব ইস্যুতে বিরোধিতা না করে দেশ গড়ার স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।